গুজমানপুত্রের গ্রেফতার নিয়ে মেক্সিকোর কুলিয়াকান রণক্ষেত্র

যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমানের ছেলেকে গ্রেফতার করা নিয়ে মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় নগরী কুলিয়াকান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা প্রচণ্ড গোলাগুলি ও সহিংসতার মুখে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুজমানের ছেলে ওভিদিও গুজমান লোপেজকে (২৮) ছেড়ে দিয়েছে।

গত জুলাইয়ে এল চ্যাপো গুজমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। গুজমানের মাদক পাচার ও অপরাধ চক্র ‘সিনালোয়া কার্টেল’ মেক্সিকো ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক পাচারের জন্য কুখ্যাত। এছাড়া তার ‘হিটম্যান’রা গত কয়েক দশকে শত শত লোককে হত্যা, অপহরণ এবং নির্যাতন করেছে। গুজমান গ্রেফতার হওয়ার পর ছেলে ওভিদিও গুজমান সিনালোয়া কার্টেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় চলে আসেন। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলফনসো দুরাজো জানান, পুলিশের              একটি টহল দল বৃহস্পতিবার নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে সিনালোয়া রাজ্যের কুলিয়াকান নগরীর একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওভিদিও গুজমানসহ চারজনকে খুঁজে পায় এবং তাদের গ্রেফতার করে। তাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিনালোয়া চক্রের সদস্যরা পুলিশের টহল দলটিকে ঘিরে ফেলে গুলি বর্ষণ শুরু করে। তাদের তাণ্ডবে পুরো নগরী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় তারা বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ বাধ্য হয় ওভিদিওকে ছেড়ে দিতে। যুক্তরাষ্ট্রে ওভিদিওর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের একাধিক মামলা রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী দুরাজো বলেন, নগরীতে আরো সহিংসতা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষা করতেই ওভিদিও গুজমানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেক্সিকোর টেলিভিশনে পরিবেশিত বিভিন্ন ছবিতে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের ভারী অস্ত্রসজ্জিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যুক্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এই কুলিয়াকান সিনালোয়া মাদকচক্রের শক্ত ঘাঁটি। গুজমান পরিবারের একজন আইনজীবী এপিকে বলেছেন, ওভাদিও জীবিত ও মুক্ত আছেন।

‘এল চ্যাপো’ বা ‘পিচ্চি’ নামে পরিচিত ৬২ বছর বয়সি গুজমান গত কয়েক দশকে বিশ্বের সবচেয়ে সুগঠিত ও অন্যতম ক্ষমতাশালী অপরাধী চক্র সিনালোয়ার ‘বস’ হয়ে উঠেছিলেন। এমনকি ২০০৯ সালে ফোর্বস সাময়িকীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের তালিকায় তার নামও উঠেছিল। গুজমান দুইবার মেক্সিকোর সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে টানেল করে কারাগার থেকে পালান তিনি। পরে আবার ধরা পড়লে ২০১৭ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাদর বলেছেন, এই বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি তার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।