বিচারের শেষ পর্যায়ে হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলা মামলা। বর্তমানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি চলছে। এই জবানবন্দি ও জেরা শেষ হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরই মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে যাবে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করবে ট্রাইব্যুনাল। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে মামলার বাদীসহ ১১২ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদেরকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।
গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর মামলার বাদী ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দি ও জেরা শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ১১১ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেন। সাক্ষীদের মধ্যে জেএমবির অন্যতম সমন্বয়ক তানভীর কাদেরীর ১৬ বছর বয়সি ছেলেও রয়েছেন। হলি আর্টিজান মামলার সে তার বাবার জঙ্গি কার্যক্রম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন। আজিমপুর ‘জঙ্গি আস্তানায়’ হামলা মামলায় সে আসামি। জবানবন্দিতে তানভীর কাদেরীর ছেলে জানায়, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও তাদের সহযোগীরা ছাড়াও দুই আসামি রাশেদ ওরফে ‘র্যাশ’ ও জাহাঙ্গীর আলম নিয়মিত তাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। কাঠগড়ায় ঐ দুই আসামিকেও সে শনাক্ত করে। জবানবন্দিতে ঐ কিশোর জানায়, তার বাবা ফজরের নামাজ পড়ে জগিং করতেন। তার সঙ্গে থাকতেন মুসা ও মেজর জাহিদ। এর মধ্যে একদিন তাদের বাবা হিজরতের পরামর্শ দেন মাকে। প্রথমে রাজি ছিলেন না, পরে রাজি হন। তানভীর কাদেরীকে উদ্ধৃত করে ঐ কিশোর বলেন, আব্বু বলে, আমরা এক জায়গায় যাব, যেখানে খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট হবে, স্কুল খেলার মাঠ নাও থাকতে পারে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা খুশি হবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটি প্রমাণের জন্য সকল সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের সাক্ষ্যে মামলাটি প্রমাণিত হবে সেসব সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ৩৪২ ধারায় আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে। এটা ফৌজদারি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে আসামিরা তাদের লিখিত বক্তব্য আদালতে তুলে ধরেন। এরপর কোনো আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষী থাকলে তা আদালতে দেবেন। এরপরই যুক্তিতর্ক হবে। অর্থাত্ মামলাটির বিচার এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।