মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় পুরাতন ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করেই যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ। এভাবে যথেচ্ছ বালু উত্তোলনে নদী পাড়ের বসতবাড়ি ও দুই থেকে তিনশ হেক্টর ফসলি জমি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা, নারচী, বেগুন নারচী, ঘিওর পূর্বপাড়া, বাইলজুরি, মাইলাগী, বৈইলট, জাবরা বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের নদীর পাড় ঘেঁষে ২০-২৫টি নৌকায় বসানো ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে চলেছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। দীর্ঘদিন যাবত্ একটি সিন্ডিকেট এভাবে অবৈধ এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সংঘবদ্ধ এ চক্রটির কারণে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জীবনের ভয়ে কেউ তাদের এহেন পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
জানা যায়, ট্রলার মালিকরা প্রতি টন বালু বিক্রি করে ১২০০-১৪০০ টাকা। গড়ে প্রতিদিন ৯০/১০০ ট্রলার বালু উত্তোলন করা হয়। নদী থেকে অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর ঘরবাড়িসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে বালু ভর্তি ট্রলার ঘন ঘন চলাচল করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। প্রতি বছর ভরা বন্যা মৌসুমে এই চক্রটি ট্রলার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। ফলে নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন করলে কুস্তা, নারচী, শ্রীধরনগরসহ বহু এলাকা অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা রয়েছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। কিছুদিন আগেও বালু উত্তোলনকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। আবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।