পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বন গেছে, পশুপাখির আবাসসহ ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্যহাতি। প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন পানি তোলায় ক্রমে নিচে নামছে পানির স্তর আর দেখা দিয়েছে পানির সংকট। এটি চলতে থাকলে আগামীতে উখিয়া-টেকনাফ মরুভূমিতে রূপ নেবে। তাই রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেওয়া হবে না।
একাদশ জাতীয় সংসদের ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। শুক্রবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শহীদ জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির এ বৈঠকে সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী পাহাড় কাটা নিয়ে আরো বলেন, যারা পাহাড় কাটবে তাদের রেহাই নেই। এনজিওরা পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্দিষ্ট স্থানে ৬৩টি হাতি চলাচলের পথ রয়েছে। এসব হাতির পথের চারদিকে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। তাই হাতিগুলো বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এসব হাতি সুরক্ষার। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য করিডোর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ৮ম সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কী পরিমাণ পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়েছে এবং ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের। এ জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে কমিটি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষার ওপর খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড় কাটা, বন ধ্বংস করাসহ নানাভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা হলেই মানুষসহ সমস্ত প্রাণিকুলের সুরক্ষা হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠকে উপস্থিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর আলম এমপি, আনোয়ার হোসেন এমপি, মো. মোজাম্মেল হোসেন, নাজিম উদ্দিন এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকগণও অংশ নেন।