একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল দুপুরে প্রায় একই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান অফিসে ২০ দল পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ’চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন বলে ঘোষণা করা হয়। নেতারা বলেন, নির্বাচনে গেলেও আমরা প্রতিদিনই ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিবিঢ় পর্যবেক্ষণে রাখবো। অবস্থা বুঝে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আন্দোলন শুরু হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছুই করা হবে।
ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, নির্বাচনও আন্দোলনেরই অংশ। আমাদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। আন্দোলন শুরু হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছুই করা হবে। আমরা প্রতিদিনই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করব। অবস্থা বুঝে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আজ আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। ইনশাআল্লাহ এবারও বিজয় আমাদেরই হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই ঐক্য।
তিনি এর আগের নির্বাচনগুলোর উদাহরণ টেনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল একমাস পিছিয়ে নতুন তফসিলের দাবি জানান।
ড. কামাল হোসেনের সই করা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের মুখপাত্র, নির্বাচন পেছাতে পারে। পূর্ব নির্ধারিত ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৭ অথবা ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হতে পারে।
নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সিইসিকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৯ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। মির্জা ফখরুল চিঠিতে জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই তফসিল এক মাসের জন্য পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানান তিনি।
চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ২০ দলীয় ঐক্যজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণতন্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। অতএব, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী সিডিউল এক মাস পিছিয়ে দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে নির্বাচন সাত দিন পেছানোর দাবি জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। চিঠিতে বলা হয়েছে-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেওয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করা হোক। অনুরূপভাবে ভোট গ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করছি। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় সিইসির কাছে এই চিঠি পৌঁছে দেন বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।
সব দল চাইলে ভোট পেছাবে ইসি
সব রাজনৈতিক দল চাইলে ভোট পেছানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) একটি প্রতিনিধি দল সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি একথা জানান বলে জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু কাজ করে থাকি। সে বিষয়টি অবহিত করতে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আমাদের কাজে কমিশনের সহযোগিতা চেয়েছি। সচিব বলেছেন নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পেছানো হবে কি না তা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন সব দল যদি চায় তখন কমিশন সেইভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এদিকে, বাম গণতান্ত্রিক জোটও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের নেতারা ঘোষিত তফসিল বাতিলের দাবি জানান।
গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তিনি জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। ২৩ ডিসেম্বর রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।