কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ, হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

নাটোরের নলডাঙায় রাজশাহীর বাগমারার এক কলেজছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নলডাঙা পুলিশ ঐ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত তামান্না আক্তার টিয়া (১৭) পুঠিয়ার সাধনপুর পঙ্গু ও শিশুনিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমাসপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে।

ঐ ছাত্রীর বাবা বলেন, তার মেয়ের সাথে পুঠিয়ার সাধনপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের বখাটে ছেলে শান্ত ইসলামের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয়েই বিয়ের জন্য নিজ নিজ পরিবারকে জানায়। তবে কোনো পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এরই মধ্যে গত ১৮ অক্টোবর রাতে বখাটে শান্ত কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। তারা টিয়াকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজিও করেন। তবে মেয়ের সন্ধান করতে পারেননি।

এদিকে গতকাল শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার পীরগাছা নামক এলাকার একটি আমগাছে তার মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেন। পরে তিনি গিয়ে মেয়েকে শনাক্ত করেন এবং বাগমারা থানায় খবর দেন। কিন্তু লাশটি নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকার মধ্যে থাকায় সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে নলডাঙ্গা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

কলেজছাত্রীর বাবা আরো অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বখাটে শান্ত ক্ষোভে ও রাগে তার মেয়ের সাথে এমন নৃশংসতা ঘটাতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। নলডাঙ্গা থানার ওসি উজ্জল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের পর হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মৃতের শরীরে আঘাতেরও কোনো দাগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগে বলছেন ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতের পা সম্পূর্ণ মাটিতে ঠেকে ছিল এবং লাশ নামানোর সময় সাহায্যকারী স্থানীয় মহিলারা নিহতের বিশেষ স্থানে বেশ আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।