প্রতীক বরাদ্দের পর ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এ আসনের সঙ্গে যুক্ত ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের পাদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের বর্তমান এমপি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। এজন্য নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন। প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নৌকায় ভোট চাইতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। এই আসনের বিএনপি দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহ্জাহান ওমর। এ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েদী।
ঝালকাঠি-১ আসনে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু এমপি হলেও দ্বিতীয় নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। দ্বিতীয়, পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদে এখানে বিজয়ী হন বিএনপির শাহজাহান ওমর। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এবারের নির্বাচনে এ আসন ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ যেমন চেষ্টা চালাচ্ছে তেমনি বিএনপি মরিয়া তাদের হারানো আসন উদ্ধারে।
আরো পড়ুন: বগুড়া-৬: নুরুল ইসলামের সঙ্গে লড়বেন মির্জা ফখরুল
নির্বাচনের বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম সরফরাজ বলেন, ১১ ডিসেম্বর রাজাপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে আমরা সভা করে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছি। এই সভায় আমাদের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত ছিলো। আমাদের প্রার্থী বজলুল হক হারুনের অবস্থান ভাল হওয়ায় জনগণের সাড়া আছে। প্রতিপক্ষের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় তারা মাঠে নেই।
বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহ্জাহান ওমর বলেন, ১০ তারিখ প্রতীক পাওয়ার পরে ১১ তারিখে আমার নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের আটক করা শুরু হয়েছে। রাজাপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিম আকনসহ মোট ৩ জন নেতাকর্মীকে ১৯৭৪ সনের বিশেষ আইনে আটক করা হয়েছে। আমি ১১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে রাজাপুর যাবার পথে ঝালকাঠিতে অবস্থান করে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনকে জানিয়েছি।
উল্লেখ্য, এই আসনে ১২টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্রর সংখ্যা ৯০টি। পুরুষ ভোটার ৮৯ হাজার ৫৯৪ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৯ হাজার ২১১ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮০৫।
ইত্তেফাক/বিএএফ