স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
বাংলাদেশ ফুটবল দল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কাতার ও ভারতের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিল। তারপরও প্রথমটাতে হার আর পরেরটায় ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল।সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উন্নতির গ্রাফটাকে এবার আরো উঁচুতে তোলার চ্যালেঞ্জই দেখছেন দলের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে প্রথমবারের মতো এবার অংশ নিচ্ছে প্রথমবারেই প্রিমিয়ার লিগ আর স্বাধীনতা কাপের দ্বিমুকুট জেতা বসুন্ধরা কিংস। ইব্রাহিম জানালেন, শিরোপার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তার দল।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার বলেন, ‘টুর্নামেন্টে দারুণ সব দল খেলতে এসেছে। তাদের বিপক্ষে খেলাটা মোটেও সহজ হবে না আমাদের জন্য। তবে যেহেতু আমরা বাংলাদেশ লিগের চ্যাম্পিয়ন, সেহেতু বাংলাদেশে হওয়া এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতাটা অনেকটা আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
চলতি দলবদলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মন, মিডফিল্ডার আতিকুল ইসলাম ফাহাদ যোগ দিয়েছেন বসুন্ধরায়। ফলে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের ডেরায় এখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সংখ্যাটা দাঁড়াল ৯-এ। ইব্রাহিম জানালেন ক্লাবের জন্য তো বটেই, জাতীয় দলের জন্যও সুফল বয়ে আনবে ব্যাপারটা, ‘জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় এখন বসুন্ধরায়। আমাদের মাঝে বোঝাপড়াটা ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। এটা ক্লাবের জন্যও ভালো, জাতীয় দলের জন্যও।’
ভারতের বিপক্ষে সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে শুরুতে সাউ উদ্দিনের গোলে এগিয়ে গিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ মুহূর্তে আদিল খানের লক্ষ্যভেদে ড্রয়ে বাধ্য হতে হয় জেমি ডে’র শিষ্যদের। ইব্রাহিম জানালেন প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটা বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছিল দলে। তিনি বলেন, ‘এত বেশি দর্শকের সামনে আমরা কখনো খেলিনি। তাই ভারতের বিপক্ষে সল্টলেকে ম্যাচের আগে সে খেলাটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই ছিলাম আমরা। সেটাই ম্যাচে কাজে দিয়েছে।’
ভারতের বিপক্ষে দলকেলড়াকু শুরুটা এনে দিয়ে ছিলেন বসুন্ধরা মিডফিল্ডারই। ইব্রাহিমের দুর্দান্ত দুটো সোলো রান গিয়ে শেষ হয় ভারতের বক্সে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের দুটো ট্যাকলে। পেনাল্টির আবেদনও তুলেছিল বাংলাদেশ দল। তবে তাতে কান না দিয়ে সেদিন খেলা চালু রাখার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন রেফারি। তাতে কিছুটা আক্ষেপই ঝরে পড়ল তার কণ্ঠ থেকে।
ইব্রাহিমের ভাষ্য, ‘আমরা দুইবার পেনাল্টি পাওনা ছিলাম। বিশেষ করে প্রথমবার তো অবশ্যই। রেফারি একটাও দেননি। কেন দেননি সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’
ভারতের বিপক্ষে এমন লড়াকু পারফরম্যান্সের পর দলের চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গেছে বহুগুণে, অভিমত বসুন্ধরা মিডফিল্ডারের। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের মাঠে যখন আপনি এমন একটা ম্যাচ খেলবেন তখন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এখন আমাদের সে মানধরে রাখতে হবে। মানটা পড়ে গেলে সে ম্যাচের প্রাপ্তিটা মূল্যহীন হয়ে পড়বে।’