মুসলিম হয়ে কীভাবে মহানবী সম্পর্কে খারাপ কথা লিখে অন্যকে ফাঁসায়? ------------------- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একজন মুসলিম হয়ে কীভাবে মহানবী (সা) সম্পর্কে খারাপ কথা লিখে অন্যকে ফাঁসায়? তা বোধগম্য নয়। ভোলায় হিন্দু ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সেই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মানুষকে সমবেত করার পেছনে কী উদ্দেশ্যে ছিল? গতকাল রবিবার গণভবনে আওয়ামী যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সেখানে তার নাম দিয়ে কিছু মিথ্যাচার করা হয়। যার ফেসবুক হ্যাক করা হয়, তাকে আবার ফোন করে ২০ হাজার টাকাও দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার আইডিতে এমন সব কথা লিখবে, যেটা তার ক্ষতি হবে। এটা জানার পর ঐ হিন্দু ছেলে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জিডিও করে। কিন্তু জিডি করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে রাখে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। যারা ফেসবুকে এই হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাক করে টাকা না পেয়ে তার নামে যে কথাগুলো লিখেছে, সেও তো একজন মুসলমান।       একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে নবী করিম (সা) নিয়ে এই ধরনের বাজে কথা লেখে? সেই কথা ধরে সেখানকার একজন পীর সাহেব বেশ কিছু লোককে জড়ো করেন। পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। এখন দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? আর এদের উদ্দেশ্যটা কী? 

শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যদি সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, যদি তাদের নবী করিম (সা)-এর প্রতি এতটুকু সম্মান থাকে, তাহলে আরেক জনের ক্ষতি করার জন্য এই ধরনের জঘন্য কথা কীভাবে লেখে? কাজেই আমি দেশবাসীকে বলব ধৈর্য ধরতে। যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশ যখন ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে, তখনই একটা শ্রেণি নানাভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। কেউ যদি আমাদের মহানবী (সা) বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে, নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কাজেই সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সম্মানের সঙ্গে বাস করবে। এটাই আমাদের দেশের একটা নিয়ম এবং আমরা চাই বাংলাদেশ যেন একটা শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যতগুলো সহযোগী সংগঠন আছে তাদের সবার যেন একে একে সম্মেলন হয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখব। এই ক্ষেত্রে যারাই অপরাধী হবে তাদের কোনো ক্ষমা নেই।’

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন, শহিদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, চয়ন ইসলাম, ড. আহম্মেদ আল কবির, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুঁইয়া মাখন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, যুগ্ম-সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আসাদুল হক, এমরান হোসেন খান, আজহার উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এদের মধ্যে একমাত্র শেখ ফজলুর রহমান মারুফ গণভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তিনি প্রবেশ করতে পারেননি।