ইইউর কাছে ব্রেক্সিটের সময় চাওয়া নিয়ে জনসনের ‘নাটক’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন হাল ছাড়তে রাজি নন। আইনি বাধ্য-বাধকতার মুখে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে ইউরোপীয় ইউ-নিয়নের (ইইউ) কাছে সময় বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছেন। আবার তিনিই আরেক চিঠিতে বলেছেন, সময় বাড়ানো হবে একটি ভুল পদক্ষেপ। জনসনের এই নাটকীয় পদক্ষেপে অনেকেই অবাক হয়েছেন। খবর:বিবিসি ও রয়টার্সের।

শেষ মুহূর্তে ইইউর সঙ্গে সমঝোতা হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ধাক্কা খান প্রধানমন্ত্রী জনসন। গত শনিবার পার্লামেন্টে তিনি নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি পাশ করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এমপিরা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা চুক্তিহীন বা নো ডিল বেক্সিটের পথও আটকে দিয়েছেন। গত মাসের একটি আইন অনুযায়ী শনিবারই ইইউর কাছে সময় বাড়ানোর জন্য চিঠি দিতে বাধ্য ছিলেন জনসন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্কের কাছে মোট তিনটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একটি বেন           অ্যাক্ট নামের সেই আইনের ফটোকপি, যা জনসনকে চিঠি লিখতে বাধ্য করেছে; দ্বিতীয়টি, ব্রিটিশ সরকার শুধু আইন অনুযায়ী কাজ করছে, এমনটি জানিয়ে ইইউতে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূতের পাঠানো একটি নোট এবং তৃতীয় আরেকটি চিঠি, যেটিতে জনসন জানিয়েছেন তিনি সময় আর বাড়াতে চান না। সময় বাড়ানোর চিঠিতে তিনি সই করেননি। তৃতীয় যে চিঠিটি জনসন পাঠিয়েছেন সেটিতে জনসন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আমি বলে আসছি এবং আজ পার্লামেন্টকেও বলেছি, আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সময় আরো বাড়ালে যুক্তরাজ্য ও আমাদের ইইউ অংশীদারদের স্বার্থ এবং বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময় বাড়ানো হবে একটি ‘ভুল’ পদক্ষেপ। আগামী ৩১ অক্টোবরের আগেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আইনগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত করা যাবে, চিঠিতে এ ব্যাপারে নিজের আস্থার কথাও জানিয়েছেন জনসন।

জনসনের অনুরোধ জানানো চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন টুস্ক। এ বিষয়ে ইইউ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলার চেষ্টা করেছেন যে, ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার বিষয়ে ইইউর কারো আগ্রহ নেই। কিন্তু তার পরও ইইউ ব্রিটেনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে গতকাল রবিবার যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ৩১ অক্টোবরেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে। নো-ডিল ব্রেক্সিটের প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ মন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেন, আমরা ৩১ অক্টোবরেই ইইউ ছাড়ছি। এমনটি করার সামর্থ্য ও যোগ্যতা আমাদের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে গোভ বলেন, পার্লামেন্টের আবশ্যকতার জন্য চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, সরকার নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাশ করাতে চেষ্টা করবে। আগামী সপ্তাহে চুক্তিটি পাশ করাতে এমপিদের পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্ভব। তবে লেবার পার্টির ব্রেক্সিট শ্যাডোমন্ত্রী স্যার কেইর স্টারমার জনসনের দ্বিতীয় চিঠিকে শিশুসুলভ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নো ডিল বেক্সিট হলে এর দায় প্রধানমন্ত্রীকে বহন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে।