গতকাল রবিবার কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয় জন পাকিস্তানের, আর তিনজন ভারতের বলে দুই দেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ভারতের কুপওয়ারা জেলার টংধড় পাহাড়ি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিতর্কিত এলাকায় নয়াদিল্লির আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরই এমন ঘটনা ঘটল। এই ঘটনার জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তারা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে দুজন সেনা ও একজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন তিন জন। এই হামলায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরো তিন জন বেসামরিক লোক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। অন্যদিকে, পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের কর্মকর্তারা বলছেন, মুজাফফরাবাদ ও নিলম উপত্যকায় ছয় জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন এবং অপর আট জন আহত হয়েছেন।
মুজাফফরাবাদের ডেপুটি কমিশনার বাদার মুনির বলেন, সেখানকার বেসামরিক লোকদের বাড়িঘরে মর্টার শেল ছোড়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের।
আগস্টের প্রথমদিকে নয়াদিল্লি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী দিন হিসেবে দেখা দিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোররাতে কুপওয়ারার টানগড় সেক্টরে কয়েক ঘণ্টা ধরে উভয়ে পক্ষের গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ‘অধিকৃত’ কাশ্মীরে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনী ‘পাগল’ হয়ে গেছে বলে এক টুইটে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার। হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘কাশ্মীর নিড অ্যাটেনশন’ লিখে নিজের টুইটে তিনি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত বর্বরতা। এ নিয়ে বিশ্বের নিশ্চুপ থাকা উচিত নয়।’—এএফপি, রয়টার্স