সীমান্ত থেকে সরে যাওয়ার দাবি করেছে কুর্দি বাহিনী

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার সীমান্ত শহর রাস আল আইন থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তবে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র এই দাবি নাকচ করেছেন।

রাস আল আইনের কথা উল্লেখ করে এসডিএফের মুখপাত্র কিনো গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, ‘শহরটিতে আমাদের আর কোনো যোদ্ধা নেই।’ কিন্তু রাস আল আইন থেকে এসডিএফ ‘এখনো পুরোপুরি সরে ?যায়নি’ বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মেজর ইউসেফ হামৌদ।  এর আগে আঙ্কারা জানায়, রাস আল আইনে কয়েক ডজন গাড়ি প্রবেশ করার পর আবার ফিরে গেছে। তুরস্কের বাহিনীগুলো ও তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা প্রায় চারদিক থেকে শহরটি ঘিরে রেখেছে।

তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন সিরীয় এলাকাগুলো থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের হটিয়ে দিয়ে সেখানে একটি ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এই লক্ষ্যে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তারা। তুরস্ক কথিত ‘সেইফ জোন’ সীমান্ত থেকে সিরিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কথা।

এই অঞ্চলের যে দুটি সীমান্ত শহরকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেছে তুরস্ক রাস আল আইন তার একটি। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ওয়াইপিজির সম্পর্ক থাকায় গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক। নিজ দেশের কুর্দি বিদ্রোহীদের থেকে ওয়াইপিজিকে দূরে রাখতেই আঙ্কারা সিরিয়ার উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে কথিত ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বৈঠকের পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। বৃহস্পতিবার রাত থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি শেষে ওই সেইফ জোন এলাকায় এসডিএফের কোনো উপস্থিতি থাকলে তুরস্ক ফের আক্রমণ শুরু করবে বলে সতর্ক করেছেন এরদোয়ান।