ফকিরহাটে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা নানা কারণে বিঘ্নিত!

ফকিরহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা কার্যক্রম নানা কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মনিরা বেগম, উর্মী বেগম, কনক দেবনাথসহ স্থানীয় অনেকেই জানান, নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সেবা নিতে গিয়ে ওষুধ ও প্রসবজনিত সেবা পাননি। প্রসবকালীন দরিদ্র মায়েদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের হাতে ইচ্ছামত তৈরি হয় তালিকা। ফলে দরিদ্র মায়েরা মাতৃত্বকালীন সরকারের বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ফকিরহাট উপজেলায় ১ হাজার ৩৩০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে প্রসব হয়েছে ১ হাজার ১১৬ জনের। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বাড়িতে ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ৫০৫টি স্বাভাবিক এবং ৬৮০টি সিজার ডেলিভারি হয়। জনসচেতনতা হ্রাসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতায় চার জন মায়ের মৃত্যু হয়। মৃত জন্ম তিন জন। ২৯টি গর্ভপাত ও সাত জন শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ২টার পর কোনো ডাক্তার না থাকায় অধিকাংশ মায়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়রা জানান।

ফকিরহাট উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে জানা যায়, ডেলিভারি রুম আছে, যন্ত্রপাতির অভাবে অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নরমাল প্রসব করানো যাচ্ছে না।

ফকিরহাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. দিলদার হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ ডেলিভারি কক্ষে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা আছে। তবে উল্লেখযোগ্য হারে সন্তান প্রসব হয়নি। জনসচেতনতার অভাবসহ নানা কারণে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।’

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অসিম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘অবকাঠামো খারাপ, ওষুধ ও জনবল সংকটসহ কিছু সমস্যা রয়েছে। তারপরেও নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সকলে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকি। কেউ যদি অনিয়ম দুর্নীতি করে থাকেন, সে সম্পর্কে আমাকে যে কেউ তথ্য দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।