ইতিহাস গড়েছে কোয়ান্টাস। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে রওনা দেওয়া দীর্ঘতম বিরতিহীন বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ১৬ মিনিট উড়াল দিয়ে সিডনিতে সফলভাবে অবতরণ করে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ১৮ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এরপর গতকাল রবিবার অস্ট্রেলীয় সময় সকাল ৭টা ৩৩ মিনিটে সিডনি বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। কোয়ান্টাসের বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজটি পুনরায় জ্বালানি না নিয়েই ১৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার (১০ হাজার মাইলেরও বেশি) পাড়ি দিয়েছে। আর কোনো বিমান সংস্থার এই অর্জন নেই।
মাত্র ৫০ জন যাত্রী নিয়ে দীর্ঘযাত্রার পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। এই যাত্রীদের বেশির ভাগই কোয়ান্টাসের কর্মী। তারা উড়োজাহাজে যোগব্যায়াম, শরীরচর্চা, কফি খেয়ে ও মসলাদার খাবার খেয়ে সময় কাটিয়েছেন। ফ্লাইটটিতে চার জন পাইলট পালা করে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আরো দুই পাইলট কেবিনে ছিলেন। তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ হেডব্যান্ড পরতে দেওয়া হয়। পাইলটদের সতর্কতা রেকর্ড করতে ক্যামেরা বসানো হয় ককপিটে।
রেকর্ড গড়া ফ্লাইটটি কোয়ান্টাসের প্রজেক্ট সানরাইজের অংশ। দীর্ঘ রুটে বিরতিহীন ভ্রমণে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করাই এর লক্ষ্য। ২০ ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ের ফ্লাইটগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে অস্ট্রেলিয়ান সিভিল এভিয়েশন সেফটি অথরিটিকে এমন তথ্য জোগান দেবে কোয়ান্টাস।
আরো কয়েকটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনার পর যদি দেখা যায়, দীর্ঘতম বিরতিহীন ফ্লাইট যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হবে না তাহলে ২০২২ কিংবা ২০২৩ সালে এটি চালু করা হবে। সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন থেকে নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনে এগুলো চলাচল করবে। এর ফলে যাত্রীদের মোট ভ্রমণ সময়ের মধ্যে চার ঘণ্টা সাশ্রয় হবে।
নিউ ইয়র্ক থেকে উড়ার ছয় ঘণ্টা পর যাত্রীদের উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবার দেওয়া হয়। যেমন টম্যাটো স্যুপ, চীনা বাঁধাকপি দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস, ভাত, আচার ইত্যাদি। ওয়াইন কিংবা এমন পানীয় পরিবেশন করেননি কেবিন ক্রুরা। তবে অনুরোধ করলে কিছু পানীয় দেওয়া হয়েছে। আসনের সামনে টিভি পর্দা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাদের। এছাড়া রাতে আলো কমিয়ে রাখায় ঘুমিয়েছেন অনেকেই।
কোয়ান্টাস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালান জয়েস বলেন, ‘জেটল্যাগ কমাতে আমাদের গন্তব্য সিডনির দিনের সময়ের সঙ্গে মেলাতে প্রথম ছয় ঘণ্টা আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল।’
ইউনিভার্সিটি অব সিডনির অধ্যাপক মারি ক্যারোল জানান, আমরা ইকোনমি কেবিনে লাতিন ছন্দে নেচেছি। জেটল্যাগ এড়াতে সহযাত্রীদের নিয়ে দলবেঁধে ব্যায়াম করেছি।