বিনা দোষে ২৫ দিন ধরে কারাবাসে নয়ন

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান বাবুল হোসেন নয়ন। স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজ থেকে চলতি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হন নয়ন। তাই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার। মিথ্যা মামলায় ২৫ (২১ অক্টোবর পর্যন্ত) দিন ধরে টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।      

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী বাসাইলের চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এর চার দিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে পরিবারের লোকজন ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরিবারের চাপে মেয়েটি নয়ন নামের এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিল বলে জানায়। পরে মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

পুলিশ নয়নকে গ্রেফতার করে মেয়েটির মুখোমুখি করলে মেয়েটি গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ সময় নয়ন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঐ ছাত্রীকে চেনেন না এবং কক্সবাজারে যাননি বলে জোর দাবি করতে থাকেন। মেয়েটির অনড় অবস্থানের কারণে নয়নকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠালে আদালত পুলিশকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিল। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করি। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ঐ হোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল হোতা নয়ন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। সে ঐ উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে। পরে গ্রেফতার হওয়া নয়ন মিয়া ঐ ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।’

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে আমরা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই নির্দোষ নয়ন মুক্তি পাবে।’