গ্রামীণফোন ও রবির অডিট আপত্তির টাকার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ

গ্রামীণফোন ও রবির অডিট আপত্তির টাকার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, সচিব, এনবিআর, বিটিআরসি এবং গ্রামীণফোন ও রবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইসিটি উপদেষ্টা। বৈঠকে পুরো ঘটনাটি শুনে দ্রুত সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ বিষয়ে আবারও বৈঠক হতে পারে। সেখান থেকে নির্দেশনা মিলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ চেষ্টার পরও গ্রামীণফোন ও রবি অডিট আপত্তির পাওনা পরিশোধ করছে না। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭  কোটি ২৩ লাখ টাকা। টাকা উদ্ধারে দুই অপারেটরে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে           বিটিআরসি। অন্যদিকে আদালত থেকে দুই মাসের স্থগিতাদেশ পেয়েছে গ্রামীণফোন।

বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসালে কী প্রভাব পড়তে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের শীর্ষ মহলেও। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আইসিটি উপদেষ্টা সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে বলেছেন উপদেষ্টা। এনবিআর চেয়ারম্যান এই আলোচনা চালিয়ে নেবেন বলে জানা গেছে। তবে সব পক্ষই আলোচনায় সমাধানের পক্ষে।

বৈঠক শেষে কেউই নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপদেষ্টা কঠোর না হয়ে সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে সবাই লাভবান হয় এমন কোন পথ খুঁজতেও নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রহকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং গ্রামীণফোন ও রবির সিইওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

সর্বশেষ অর্থমন্ত্রী বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানেও অর্থমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন সেটা অপারেটররা পালন করেনি। গত ৩ অক্টোবর তাদের সঙ্গে শেষ বৈঠক হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে রবি ২৫ কোটি এবং গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবি ১৫ কোটি টাকার পে-অর্ডার দিলেও সরকার সেটা গ্রহণ করেনি। আর গ্রামীণফোন কোনো টাকাই পরিশোধ করতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।