বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রের তারকাদের মিলনমেলা বসেছিল ঢাকায়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা হতেই বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকেন সব জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রসেনজিত্, ঋতুপর্ণা, জিত্, আবির চ্যাটার্জি, তনুশ্রী দত্ত, পরমব্রত, পাওলি দাম, বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী, ওমর সানি, জয়া আহসান, বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, পরীমনি, ইমন, নিরব, তাসকিন, সিয়াম, পূজা চেরিসহ অনেক তারকা। জমকালো আয়োজনে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলো টিএম ফিল্মস নিবেদিত ‘বাংলাদেশ-ভারত ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ)’-এর প্রথম আসর। ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠান থেকেই চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, টিএম ফিল্মসের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফিরদাউসুল হাসান ও বিবিএফএ এর সমন্বয়ক তপন রায়। আরো উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার জুরি বোর্ডের সদস্য বাংলাদেশের আলমগীর, কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর রেজা কল্লোল। অন্যদিকে, ভারত থেকে আছেন গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে টিএম ফিল্মসের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী বলেন, ‘দুই বাংলায় চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে, ঠিক এই সময়ে চলচ্চিত্রের পথে পা বাড়িয়েছে আমাদের টিএম ফিল্মস। নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াসে আমরা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বপ্ন দেখছি দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়ার।’ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম প্রমুখ।
আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘দুই বাংলা মিলিয়ে এতো এতো তারকা থাকতে আমাকে আজীবন সম্মাননা দেয়ো হবে এটা আমি কখনো ভাবিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। রঞ্জিত মল্লিক বলেন, ‘যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণের যে প্রয়াস চলছে, তা যেন আরো বেগবান হয়। আমি পৃথিবীর বহু দেশে ঘুরেছি, কিন্তু বাংলাদেশে আসলে যে আতিথেয়তা পাই তা পৃথিবীর আর কোথাও পাই না।’ কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘সিনেমা কি সত্যি দুই বাংলার মানুষের মধ্যে প্রীতি ও মিলন বয়ে আনতে পেরেছে? সিনেমা আমাদের একত্রিত করে দিবে, মানুষের মধ্যে আর কোনো বিভেদ থাকবে না।’
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার দারুণ এক সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। আমাদের দুই বাংলার ইতিহাস ও সম্প্রীতি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আরো দৃঢ় হবে। এই ঢাকা শহরে ১৯৬৫ সালে প্রথম চলচ্চিত্র উত্সবের আয়োজন হয়েছিল। যেখানে সত্যজিত্ রায় উপস্থিত ছিলেন। এই শহরেই আবার তেমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কলকাতার মীর আফসার আলী ও বাংলাদেশের শাহরিয়ার নাজিম জয়।