মোহাম্মদ আক্তার-উজ-জামান
প্রভাষক
সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
শৈবাল ও ছত্রাক
ব্যবহারিক ক্লাসে অর্পা অনুবীক্ষণযন্ত্রে একটি সবুজ সূত্রাকার অশ্বত্থ উদ্ভিদ প্রত্যক্ষ করলো যার কোষগুলো বেলনাকার এবং গার্ডল আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্ট বিদ্যমান। অন্যদিকে স্বপ্না আর একটি উদ্ভিদের জীবন্ত নমুনা প্রত্যক্ষ করলো যার উপরের দিকের অংশটি অনেকটা ছাতার মতো এবং গোড়ার দিকে অংশটি কাণ্ডের মতো।
প্রশ্ন: ক. ছত্রাক কাকে বলে?
প্রশ্ন: খ. বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায় কী?
প্রশ্ন: গ. অর্পার পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদটির অযৌন জনন বর্ণনা কর।
প্রশ্ন: ঘ. অর্পা ও স্বপ্নার পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদ দুইটির দৈহিক গঠনের বৈচিত্র্যতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ক. ছত্রাক ক্লোরোফিল বিহীন এমন একটি জীবগোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং খাদ্যকে শোষণ করে দেহের অভ্যন্তরে নেয়।
উত্তর: খ বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায়গুলো হলো:
১. বেশিরভাগ উজ্জ্বল বর্ণের প্রজাতিগুলো বিষাক্ত হয়ে থাকে।
২. অম্লগন্ধযুক্ত ও ঝাঁঝালো প্রজাতিগুলো বিষাক্ত।
৩. বিষাক্ত প্রজাতিগুলোর ব্যাসিডিওস্পোর বেগুনি রংয়ের।
৪. বিষাক্ত মাশরুম কখনও প্রখর রোদে জন্মায় না।
৫. কাঠের উপর জন্মায় এমন প্রজাতিগুলো বিষাক্ত।
উত্তর : গ. অর্পার পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটি Upothrix।
জুস্কোর সৃষ্টির মাধ্যমে Upothrix-এর অযৌন জনন সম্পন্ন হয়। কখনও কখনও অ্যাপ্ল্যানোস্কোর সৃষ্টির মাধ্যমেও অযৌন জনন হয়ে থাকে। জুস্কোরগুলো সাধারণত চার ফ্লাজেলাযুক্ত। যে কোষ হতে জুস্কোর উত্পন্ন হয় তাকে জুস্কোরাঞ্জিয়াস বলে। হোল্ডফাস্ট ছাড়া যে কোনো কোষ হতে জুস্কোর সৃষ্টি হতে পারে। প্রজাতির উপর নির্ভর করে প্রত্যেক জুস্কোরাঞ্জিয়াম হতে ১-৩২টি জুস্কোর সৃষ্টি হয়। একটি মাত্র জুস্কোর সৃষ্টি হলে কোষের সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাস্টইল একটি জুস্কোরে রূপান্তরিত হয়। একাধিক জুস্কোর উত্পন্ন হলে জুস্কোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট একটু সংকোচিত হয় এবং লম্বালম্বিভাবে দুইভাগে বিভক্ত হয়। প্রজাতির উপর নির্ভর করে ৩২টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি পর্যন্ত এই বিভাজন চলতে পারে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট তখন চার ক্লাজেলাযুক্ত জুস্কোরে রূপান্তরিত হয়। সরু কোষের প্রজাতি হতে সৃষ্ট সকল জুস্কোর একই প্রকার হয় কিন্তু মোটা কোষের প্রজাতি হতে দুই প্রকার জুস্কোর
উত্পন্ন হয়। (১) মাইক্রোজুস্কোর এবং
(২) ম্যাকোজুস্কোর।
জুস্কোরগুলো নাশপাতি আকৃতির। একটি ভেসিকল দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় জুস্কোরগুলো জুস্কোরাঞ্জিযানের প্রাচীরের গায়ে উত্পন্ন হয়ে ছিদ্রপথে বের হয়ে আসে। ডেসিকলের অবলুপ্তির পর এরা মুক্তভাবে ভেসে বেড়ায়। ২-৬ দিন সন্তরণের পর জুস্কোরের ফ্লাজেলাযুক্ত মাথাটি কোন জলজ বস্তুর সঙ্গে আবদ্ধ হয়। আবদ্ধ হওয়ার পর এরা আস্তে আস্তে ফ্লাজেলাবিহীন হয়। পরে চারদিকে একটি প্রাচীন নি:সরণ করে এবং ক্রমে দীর্ঘ হয় ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন Upothrix ফিলামেন্ট সৃষ্টি করে।
প্রতিকূল পরিবেশে জুস্কোরগুলো জুস্কোরাঞ্জিয়াম হতে নির্গত হয় না, অধিকন্তু এদের চারদিকে একটি প্রাচীর গঠন করে অ্যাপ্ল্যানোস্পোরে পরিণত হয়। কখনও কখনও কোন একটি কোষের সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাস্ট গোলাকার হয় এবং চারপাশে একটি পুরু প্রাচীর গঠন করে অ্যাকাইনিটিতে পরিণত হয়। একে হিপনোস্কোর বলে। অনুকূল পরিবেশে এরা এদের পুরু প্রাচীর বিদীর্ণ করে বের হয়ে আসে এবং অংকুরায়ন ও বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ফিলামেন্টে পরিণত হয়।
উত্তর: ঘ. অর্পার পর্যবেক্ষণকৃত শৈবালটি Upothrix । Upothrix একটি ফিলামেন্টাস এবং অশ্বত্থ সবুজ শৈবাল। এর দেহ এক সারি খর্ব ও বেলনাকার কোষ দ্বারা গঠিত। এর গোড়ার কোষটি লম্বাকৃতির, বর্ণহীন এবং নিচের দিকে ক্রমশ সরু। একে হোল্ডফাস্ট বলে। হোল্ডফাস্ট দ্বারা শৈবালটি কোন বস্তুর সাথে আবদ্ধ থাকে। ফিলামেন্টের প্রতিটি কোষের একটি সুনির্দিষ্ট কোষপ্রাচীর আছে। হোল্ডফাস্ট ছাড়া প্রতিটি কোষের একটি। নিউক্লিয়াস আছে, একটি গার্ডল আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্ট আছে এবং এক বা একাধিক পাইরেনয়েড আছে। ক্লোরোপ্লাস্টটি কোষকে আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণভাবে বেষ্টন করে রাখে। হোল্ডফাস্ট ছাড়া অন্য যে কোন কোষে আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হতে পারে। ফলে ফিলামেন্ট দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।
পরের অংশ আগামীকাল