আলোকপাত

সিটি ও বিভাগ প্রসঙ্গে সরগরম ফরিদপুর

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে ও ফরিদপুরে লোকজনের মুখে মুখে রটেছে যে, সিটি করপোরেশন আর বিভাগ হয়ে যাবে ফরিদপুর। তবে যতদূর জানা গেছে, ফরিদপুর এখনো সিটি করপোরেশন বা বিভাগ—দুটোর কোনোটাই হয়নি। তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হবে। তবে আশা করব, বিভাগ বা সিটি করপোরেশন বাস্তবায়নের আগেই অতি উত্সাহী হয়ে সবকিছুর দাম আরেক দফা যেন না বাড়ে।

মূল খবরটি জানা গেল এরকম—‘শর্ত সাপেক্ষে’ ত্রয়োদশ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি পেয়েছে ফরিদপুর। এর মানে হলো, সিটি করপোরেশন হতে হলে ফরিদপুরকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্তটা হলো, আগে একটি পূর্ণ বিভাগ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করতে হবে ফরিদপুরকে। গণমাধ্যম হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন থেকে বিভাগ ছাড়া সিটি করপোরেশন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মহোদয়। আগে যা হবার হয়ে গেছে। ফরিদপুরকে সিটি করপোরেশন হতে হলে আগে বিভাগ হতে হবে। বিভাগ না-হলে সিটি করপোরেশন হবে না।

গত নির্বাচনের আগে ফরিদপুর এসে জনসভায় যেমনটি ঘোষণা দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেই মতে বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে গঠিত বিভাগটির নাম হবে ‘পদ্মা’। তবে সেই বিভাগের হেড কোয়ার্টার কোথায় হবে তা বলা হয়নি। সেই জনসভার পর এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল যেভাবে রটিয়ে দিয়েছিলেন ‘সিটি হয়ে গেছে’, ‘বিভাগ হয়ে গেছে’—গত কয়েকদিন ধরেও তেমনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা নিছক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। গত সোমবার ফরিদপুর সিটি করপোরেশন আর বিভাগ হওয়ার খবর আমরা প্রথম পাই ‘জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে। আমার জানা নেই আসলেই এটা ডিসি অফিসের কেউ পরিচালিত করেন কিনা। এর ব্যত্যয় ঘটলে আংশিক সত্য খবর যারা রটাচ্ছে তাদের শনাক্ত করা জরুরি। পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র তার ফেসবুক আইডি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকেও ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে দেখা যায়। শহরে চলছে একে-অন্যকে মিষ্টিমুখ করানোর ধুম।

বৃহত্তর ফরিদপুর নিয়ে একটা বিভাগ হলে যেমন ভালো হয়, আবার দেশের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে একই বিভাগে আছি এটাও কম মর্যাদার বিষয় নয়। আলাদা বিভাগ হলেও ফরিদপুর তার হেড কোয়ার্টার হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? সেক্ষেত্রে রাজধানীর সঙ্গে থাকার সুবিধা হারাবো আমরা। আর পদ্মা সেতুটা হয়ে গেলে ঢাকার সঙ্গে দূরত্বটা আমাদের আরও কমে আসবে। তখন দিনাদিনি ঢাকা গিয়ে-এসেও অফিসিয়াল কাজ করা যাবে।

বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন একজন রটিয়ে দিলো চিলে কান নিয়ে গেছে, আর আমরাও সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই তার পেছনে ছুটছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়ার আগেই কয়েক বছর ধরে ফরিদপুরের কেউ কেউ ফেসবুকে রটিয়ে দিচ্ছেন ফরিদপুর বিভাগ/সিটি হচ্ছে, আজ হচ্ছে... কাল হচ্ছে...’। এটা অনুচিত।

আজকাল ফেসবুকে রটানো অপপ্রচার দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা এখনো ফেসবুক ব্যবহারে পুরোপুরি যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারিনি। সমপ্রতি ভোলায় ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ঘটানো ঘটনা, নাসিরনগর-রামু গুজবে কান দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

n লেখক : প্রভাষক

nipun07du@gmail.com