আলোটা নিজের করে নিতে চান আরিফুল

নেয়ামত উল্লাহ, চট্টগ্রাম থেকে

মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে বড়ো জয় পেয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। গোলদাতা চিনেদু ম্যাথিউ, ইয়াসিন আরাফাত, লুকা রটকোভিচরা শিরোনামে এলেও সেদিন সতীর্থদের বল জোগানে হ্যাটট্রিক করা আরিফুল ইসলাম থেকে গিয়েছিলেন পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে।

তরুণ এই উইঙ্গার জানালেন সেদিনের দারুণ পারফরমেন্স ধরে রেখে দলকে শিরোপা জেতাতে চান। নামি-দামি খেলোয়াড়দের ওপর থেকে পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিয়ে হতে চান টুর্নামেন্ট সেরাও।

শেখ কামাল কাপের প্রথম ম্যাচে গত শনিবার শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু আরিফের শটটা বেরিয়ে গিয়েছিল গোলপোস্টের অনেক দূর দিয়ে। তবে এরপর দলের তিনটি গোলেই ছিল তার অবদান।

প্রথমটায় চিনেদু ম্যাথিউকে দারুণ এক পাশে খুঁজে পেয়েছিলেন বক্সের মাঝেই। নাইজেরীয় ফরোয়ার্ডের দারুণ এক প্রয়াসে এগিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় গোলটায় অবশ্য ইয়াসিনের অবদানই বেশি। আরিফের বাড়ানো থ্রু থেকে দূরপাল্লার শটে গোলটা পেয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় গোলটায় আবারও শুরুর গোলের দৃশ্যের পুনর্মঞ্চায়ন হলে প্রথমার্ধেই বল জোগানের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আরিফুল।

আরিফুল ইসলাম প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম শেষ হবার পর ছিলেন দীর্ঘ বিরতিতে, তবে পুরোদমেই চলছিল শেখ কামাল কাপের প্রস্তুতি। প্রায় তিন মাস পর খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই তিনি বনে গেলেন স্বাগতিক দলটির শুভসূচনার নেপথ্য নায়ক।

 নিজের পারফরমেন্স সম্পর্কে তরুণ ফরোয়ার্ডের মূল্যায়ন, ‘আমার চেষ্টাটা ছিল নিজের সেরাটা দেবার। প্রথম সুযোগটা মিস না করলে আরও ভালো লাগত। তবে তিনটা অ্যাসিস্ট (বল জোগান) করেছি, তাতে ভালোলাগা কাজ করছে।’

আরিফুল জানালেন,দীর্ঘদিনের অনুশীলন দারুণ কাজে দিয়েছে শিরোপাধারী টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে। চট্টগ্রাম আবাহনী ফরোয়ার্ড ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ রক্ষণাত্মকভাবে ভালো দলই ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন আমরা যে অনুশীলন করেছি সেটাই এগিয়ে রেখেছিল আমাদের।’

গত শনিবার রাতের ম্যাচটিতে তিনটি অ্যাসিস্ট করলেও আরিফুল জানালেন নিজের গোল করার দক্ষতায় আরো উন্নতি চান তিনি। সাবেক আরামবাগ ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘যেহেতু ফরোয়ার্ড লাইনে খেলি সেহেতু আমার চাওয়া প্রতি ম্যাচেই যেন গোল পাই। আশা করি সামনের ম্যাচেই প্রতীক্ষিত গোলটা পেয়ে যাব।’

নামি-দামি সব খেলোয়াড়ের ভিড়ে টুর্নামেন্ট-সেরা হবার স্বপ্নও কি মনের কোনে উঁকি দিয়ে যায়? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ বললেন, ‘এমনস্বপ্ন তো আছেই। ফরোয়ার্ড লাইনে যেহেতু খেলছি সেটা হয়ে যাওয়াও খুব সম্ভব। তবে তার আগে দলকে শিরোপা জিততে হবে। সেটা যেন হয় তার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টাটাই করব।’