জাপানের সিংহাসনে বসলেন নারুহিতো

আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহণ করলেন জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতো (৫৯)। নতুন এই সম্রাটের অভিষেকের মধ্য দিয়ে জাপানি সাম্রাজ্যের ইতিহাসে নতুন ‘রেইওয়া’ যুগের সূচনা হয়েছে। রেইওয়া শব্দের অর্থ শৃঙ্খলা ও ঐকতান। গতকাল মঙ্গলবার টোকিও’র রাজ প্রাসাদে ১৭৪ দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার নেতা ও প্রতিনিধির সামনে সম্রাট নারুহিতো জাপানের ১২৬তম সম্রাট হিসেবে তার সিংহাসনে আরোহনের ঘোষণা দেন। দুপুর ১টায় সিডেন স্টেট হলের মাতসু কুন জো ম্যা স্টেট রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘তাকামিকুরা’ হিসেবে পরিচিত সাড়ে ৬ মিটার উঁচু চাঁদোয়া টানা এই সিংহাসন থেকে সম্রাট তাঁর আরোহন ঘোষণা দেন। সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ যোগদান করেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাশিদা খানম ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রবাব ফাতিমা অনুষ্ঠানের মূল কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন।

সাবেক সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ত্যাগের পর তার ছেলে নারুহিতো গত ১ মে প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সম্রাটের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। জাপানি রীতি অনুযায়ী নতুন সম্রাটের অভিষেকের ক্ষেত্রে বেশ কিছু রীতি-রেওয়াজ পালন করতে হয়। প্রাসাদের ভেতর সেসব রীতি-রেওয়াজ পালন শেষে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করেন তিনি। এ সময় নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলিয়াম আলেক্সান্ডার, স্পেনের রাজা ফিলিপ, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেয়েল ওয়াংচুক, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস এবং মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিও জাপানের নতুন সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুতে তিনটি ধর্মীয় উপসনালয়ে প্রার্থনা করেন সম্রাট নারুহিতো। পরে সম্রাজ্ঞী মাসাকো ও পরিবারের সদস্যরা উপসনালয়গুলো প্রদক্ষিণ করেন। স্থানীয় সময় বেলা ১টায় রাজপ্রসাদের হলে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। উনিশ শতকে তৈরি করা কমলা রঙের রাজকীয় পোশাক পরে ‘সেইডেন-মাত্সু-নো-মা’তে (সিংহাসন কক্ষ) প্রবেশ করেন সম্রাট নারুহিতো।

তার পেছনে সাম্রাজ্যিক ক্ষমতার প্রতীক তলোয়ার, রত্ন এবং সিলমোহর নিয়ে প্রবেশ করেন রাজকীয় অধ্যক্ষ। এরপরই সম্রাজ্ঞী মাসাকো অনুষ্ঠানস্থলে আসেন জাপানের ঐতিহ্যবাহী ‘কিমোনো’ পরে।

সিংহাসন কক্ষে প্রবেশের পর বেগুনি রঙের পর্দা ঘেরা তাকামিকুরা সিংহাসনে বসেন নতুন সম্রাট। তার পাশে কিছুটা কম উচ্চতার মিচিডাই সিংহাসনে বসেন সম্রাজ্ঞী মাসাকো। নির্ধারিত সময়ে দুই জনের আসনের সামনে থেকে পর্দা সরে যায়। ড্রামের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই জাপানি কায়দায় ঝুঁকে সম্রাটকে সম্মান জানান। বিদেশি অতিথিরাও এ সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। এরপর রাজকীয় ভাষণ দেন সম্রাট নারুহিতো। ভাষণের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সম্রাটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

জাপানের নতুন সম্রাট অনুষ্ঠানে তার ঘোষণায় দেশের সংবিধানের আওতায় এবং জাপানের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। সম্রাট মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বশান্তি কামনা করে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে পাইন চেম্বার (মাতসু-নো-ম্যা) স্টেট রুমের ফেলার থেকে অভিনন্দন বার্তা প্রদান করেন এবং সম্রাটের দীর্ঘাঘু কামনায় নেতৃত্ব দেন।  নারুহিতোর বাবা সম্রাট আকিহিতো ৮৫ বছর বয়সে গত ৩০ এপ্রিল স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করেন। বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান তিনি। জাপানের ইতিহাসে আকিহিতোই প্রথম সম্রাট যিনি স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি জাপানে হাগিবিস টাইফুনে ৮০ জনের বেশি মারা গেছেন। এ কারণে অভিষেক অনুষ্ঠানের কুজকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। খবর:বাসস ও বিবিসির।