বেতন বৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকায় আজ বুধবার মহাসমাবেশ করবেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে গঠিত হওয়া ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের’ ডাকে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ না দিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছুটির দিনে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ২১ অক্টোবর ডিপিইর মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির স্বাক্ষরিত এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আজ ঢাকায় শিক্ষকদের মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়ায় এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘আজ ২৩ অক্টোবর ‘পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বার ছুটির দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক সংগঠন বিভিন্ন দাবি নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন বলে জানা গেছে। এ কারণে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এদিন কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি না দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’ গতকালও পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় শিক্ষকদের। এদিকে মহাসমাবেশকে ঘিরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ নির্দেশনায় শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা পূর্বঘোষিত সমাবেশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছামছুদ্দীন মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায়ে ছুটির দিনে আন্দোলন করতে পারবেন না, তা হতে পারে না। যত বাধাই থাকুক আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি যথাসময়ে পালন করা হবে।
শিক্ষক নেতারা জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত ও বেতন বৈষম্য নিরসন করা না হলে তারা আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ বর্জনের ডাক দিতে পারেন। আজকের মহাসমাবেশে শিক্ষকদের চাওয়া বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে গত ১৪ অক্টোবর সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরদিন ১৫ অক্টোবর পালন করা হয় তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি। ১৬ অক্টোবর এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায় না হলে আজ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সেখান থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালন শুরু করবেন তারা। প্রয়োজনে সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেবেন আজ।
বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে ৩ লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।