বিজয়ের ৪৭ বছরেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে গোলাহাট বধ্যভূমিতে নির্মীয়মাণ স্মৃতিস্তম্ভটি পূর্ণতা পায়নি। বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৩ জুন ৪৪৮ জন নিরীহ ব্যক্তিকে ট্রেন থামিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা। দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় থাকার পর বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ শওকত চৌধুরী ওই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। গত পাঁচ বছরে বধ্যভূমিটিতে একটি স্মৃতি স্মারক নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে প্রায় তিন লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ ছাড়াও সংসদ সদস্যের নিজস্ব তহবিলসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটিকে পূর্ণতা দিতে ৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ওই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শহীদসন্তান নিজু কুমার আগরওয়ালা। অর্থ সংকটের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৩ সালে ওই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন জানান, আগামী প্রজন্মের জন্য গোলাহাট বধ্যভূমির ইতিহাস তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, এতদিনও কেন স্মৃতিস্তম্ভটি পূর্ণতা পায়নি তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রসঙ্গত, ’৭১ এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর বিহারি অধ্যুষিত ওই স্থানে বাঙালি ও অন্যান্য ধর্মের লোকেরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অবরুদ্ধ হিন্দু, মাড়োয়ারিদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৩ জুন সকালে তাদের সৈয়দপুর রেলস্টেশনে একত্রিত করা হয়। পরে স্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে গোলাহাট এলাকায় ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চলানো হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে ৪৪৮ জন শহীদ হন।