‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন সঙ্কটাপণ্ন অবস্থায় আছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন খরচ কমানো। তাই নতুন আইন প্রণোয়ন করা হয়েছে সবাই মিলে।’—নতুন আইন প্রণয়নের কারণ প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার।
মূলত প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি চলচ্চিত্রের খরচ কমানো ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন আইন নিয়ম করেছেন। পরিচালক সমিতি ও বিএফডিসি ভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এই বিষয়ে।
প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের এই নতুন নীতিমালা যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় তবে প্রতিটি চলচ্চিত্র থেকে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় কমে যাবে।’
সোমবার দুপুরে এফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। এ সময় নতুন নীতিমালা পাঠ করে শোনান প্রযোজক কিবরিয়া লিপু।
সেখানে বলা হয়, নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। নতুন নিয়মে শুটিং টাইমের ওপর বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুটিংয়ে কল টাইম থাকবে সকাল ৮টা। তবে শিল্পীদের প্রয়োজনে কল টাইম নির্ধারণ করে দেবেন পরিচালক। সকাল ১০টায় অবশ্যই শুটিং শুরু হবে, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। কোনো শিল্পী কিংবা কুশলী যদি সময়মতো শুটিং সেটে না আসেন, তার জন্য যদি শুটিং শুরু না হয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয় সেই দায়-দায়িত্ব দেরিতে আসা শিল্পী বা কুশলীকে বহন করতে হবে। শিল্পী আসার পরেও সময়মতো শুটিং শুরু করতে না পারলে তার দায় নিতে হবে পরিচালককে।
চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে বলা হয়েছে, শিল্পী ও কুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির সময় ২৫ শতাংশ টাকা পাবে, বাকিটা মোট ৩ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। ১ লাখ টাকার ওপরে যাদের পারিশ্রমিক তারা কোনো প্রকার কনভেন্স (যাতায়াত ভাতা) পাবেন না।
আরো বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূল চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীকে কমপক্ষে ৫ দিন শিডিউল দিতে হবে।