নীলফামারীর বিএস কোয়ার্টারস

বসবাস অনুপযোগী হওয়ায় থাকেন না কৃষি কর্মকর্তারা

মো. শামীম হোসেন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহূত বিএস কোয়ার্টারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর ইট চুরি হয়ে যাচ্ছে। এসব ভবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষিসেবা নিশ্চিতে নতুনভাবে কোয়ার্টারগুলো নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নয়টি ইউনিয়নে নয়টি বিএস কোয়ার্টার আছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, বড়ভিটা ইউনিয়ন ও নিতাই ইউনিয়নের তিনটি বিএস কোয়ার্টার ব্যবহার উপযোগী হলেও বাকি ছয়টি ইউনিয়নের বিএস কোয়ার্টারগুলো একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী। রাতের আঁধারে কোয়ার্টারগুলোর ইট, দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোয়ার্টারে বিএসরা না থাকায় কৃষিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাহাগিলি ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত বিএস কোয়ার্টারটি ব্যবহারের অনুপযোগী। কোয়ার্টারটির দরজা-জানালা ও ইটগুলো কে বা কারা  রাতের আঁধারে খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়াও কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হতে বসেছে। চাঁদখানা ইউনিয়নের কেল্লাবাড়িতে অবস্থিত বিএস কোয়ার্টার, মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা বিএস কোয়ার্টার, পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর বিএস কোয়ার্টার, রণচন্ডি ইউনিয়ন বিএস কোয়ার্টার, গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন বিএস কোয়ার্টার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাহাগিলি ইউনিয়নের কৃষক আলম হোসেন বলেন, ‘আগে বিএস কোয়ার্টারটি চালু থাকায় আমরা খুব সহজে কৃষি বিষয়ে যে কোনো পরামর্শ নিতে পারতাম। এখন পরামর্শ নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হয়। ’

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কৃষকদের কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদানের জন্য বিএস কোয়ার্টারগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।’ পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন বলেন,‘ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএস কোয়ার্টারগুলোর যে ভঙ্গুর দশা সেখানে বিএসদের থাকার মতো কোনো পরিবেশ নাই। ফলে ইউনিয়নের কৃষকরা প্রকৃত সেবা পাচ্ছেন না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্মিত বিএস কোয়ার্টারগুলো সংস্কারের জন্য চাহিদা প্রদান করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ এলে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেগুলো সংস্কার করা হবে।’