সৈয়দপুরে নারী শ্রমিকের তৈরি চটের ব্যাগ যাচ্ছে বিদেশে

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরে নারীরা তৈরি করছে রকমারি চটের ব্যাগ আর কার্ড। শপিং ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, ডল ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, মহিলাদের পার্টসসহ পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা।

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার চিনি মসজিদ এলাকায় ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া নারীরা। এই প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে নারীরা এমসিসির অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল ঐ প্রতিষ্ঠানের শুধুমাত্র শ্রমিক হিসাবে কাজ করে মজুরি পেতেন নারীরা। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে নারীরা বেকার হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তারা সকলেই মিলে সঞ্চয়ের টাকায় গড়ে তোলেন ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সংস্থা। ১৬ শতক জমির ৬ তলার ভিত্তি দিয়ে ৪ তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। সেখানে প্রায় ১১০ জন নারী উদ্যোক্তা শ্রমিক ও ১৫ জন কর্মকর্তা নিরলসভাবে তৈরি করছেন চটের রকমারি ব্যাগ ও হাতে বানানো কার্ড।

এখানে কর্মরত নাজমা বেগম (৪২)। স্বামী শফি আলম নাপিতের কাজ করে সংসার চালাতেন। থাকেন গোলাহাটের অবাঙালি ক্যাম্পে। তিনি জানান, এখানে কাজ করার পর থেকে প্রতিমাসে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়ে সংসার ভালোই চলছে।

শহরের নতুনবাপাড়ার সাদ্দাম মোড়ের বিলকিছ বানু (৪০) কাজ করেন এই ব্যাগ তৈরির কারখানায়। তার স্বামী আবু তালেব মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে কাজ করছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী বিলকিছ।

পাট পণ্য প্রদর্শনী ২০১৬ অংশ নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসাবে ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) ও নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মাননা স্মারক লাভ করেছে। এখানে দিনহাজিরা ও কাজের ওপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়।

‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’র প্রতিষ্ঠার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন গিয়াসউদ্দিন (৫৫)। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের ডিজাইন দেখিয়ে অর্ডার গ্রহণ করা হয়। আমাদের সব ক্রেতাই যেহেতু বিদেশি সে কারণে তাদের ইচ্ছানুযায়ী চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরি করে সরবরাহ করে থাকি। তিনি বলেন, পারিশ্রমিক ও লাভের অংশ ভাগ-বাটোয়ারার পর প্রতিবছর ৫০০-৬০০ প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের ইউনিফরম বিতরণ করা হয়।

সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠান। সমাজের অবহেলিত ও হতদরিদ্র নারীরা নিজ হাতে এখানে রকমারি চটের ব্যাগ তৈরি করে বিশ্বজয় করেছে। সহযোগিতা ছাড়াই নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।