রায়পুরে উপজেলা ভূমি অফিস
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রায় চার মাস ধরে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) পদটি শূন্য পড়ে আছে বলে জানা গেছে। এ কারণে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নামজারি ও জমাখারিজসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ জুলাই সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মোতাচ্ছেম বিল্যাহ পদোন্নতি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে এ দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায়। বদলিজনিত কারণে আগস্ট মাসে ইউএনওর পদটিও শূন্য। পরে দেড় মাসে পর পর দুই ইউএনওর বদলি হয়। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঐ পদে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও ভূমি অফিসে প্রায় দুই বছর ধরে কানুনগো না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জমির মালিকরা।
পৌর শহরের দলিল লেখক মাহবুবুল হক রুবেলসহ চার বাসিন্দা বলেন, তিন মাস আগে ঐ কার্যালয়ে তারা জমির নামজারি ও জমাখারিজ করার জন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। এখনো পর্যন্ত জমির নামজারি ও জমাখারিজ করা হয়নি। এ কারণে জমি বিক্রি করতে পারছেন না অনেকেই। কার্যালয়ে একাধিকবার এসেও কাজ হচ্ছে না। কবে কাজ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ঐ কার্যালয়ের কেউই। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি হয়রানিও হচ্ছেন তারা।
নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তিন জন তহশিলদার বলেন, সহকারী কমিশনার পদে লোক না থাকায় মাসের পর মাস ধরে অনেক ফাইল আটকে আছে। গত কয়েক মাসে ভূমিসংক্রান্ত অনেকগুলো মামলারও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। জমির নামজারি ও জমাখারিজের ৮০০ থেকে ৯০০ আবেদন আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এগুলোয় সই না হওয়ায় আবেদনকারীদের হয়রানি হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, ভূমি কার্যালয়ের সব কাজ ঠিকমতোই হচ্ছে। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।