ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুরো বিশ্বে ২য় অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের ৬ লাখ ৫০ হাজার তরুণ ডিজিটাল আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আউটসোর্সিং থেকে বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। আউটসোর্সিংয়ে ভারতের অবস্থান সবার শীর্ষে। বাংলাদেশের অবস্থান ২য় ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৩য়। বিশ্বে শতকরা ২৪ ভাগ ফ্রিল্যান্সার ভারত থেকে কাজ করছে। বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিং করছে ১৬ ভাগ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ ভাগ। কর্মবিমুখ বেকার তরুণের একটা অংশ ইতিমধ্যেই আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়ে বেশ সফলও হয়েছে। বর্তমানে নারীরাও অংশ নিতে শুরু করেছে আউটসোর্সিংয়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও পড়ালেখার পাশাপাশি নিজেকে আউটসোর্সিংয়ের জন্য দক্ষ হিসেবে তৈরি করে বেশ সফলও হচ্ছে। নিবন্ধন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং গড়ে একজন ফ্রিল্যান্সার মাসে ৫ হাজার টাকা ইনকাম করে। টেকনোলজি ও সফটওয়্যারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ভারত ও মার্কেটিং বিভাগে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে টেকনোলজির উন্নয়নে পিছিয়ে থাকবে না বাংলাদেশ। কারণ দেশের তরুণরা এখন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এবং সরকারও নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে টেকনোলজি খাতকে এগিয়ে নিতে। গত ১৪-১৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) তে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ‘ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ঐ প্রদর্শনীতে প্রায় ৬০০-এর বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে। একসময় যারা স্বপ্নের ভেতর ভাবত রোবট তৈরি করার কথা আজ তারা রোবট নিয়ে খেলছে। একসময় যারা অন্যান্য দেশের বিভিন্ন ডিভাইস হাতে নিয়ে অবাক হয়ে ভাবত এবং মাথা চুলকাতো আজ তারাই নিত্য নতুন ডিভাইস তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যে এখন শুধু সফটওয়্যার নয় হার্ডওয়্যার নিয়েও কাজ করার সামর্থ্য রাখে সেটার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে।
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশের প্রকৃত বেকারের পরিসংখ্যান দিচ্ছে বিভিন্ন রকম। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রকৃত বেকার সংখ্যা ৪ কোটির অধিক। তবে এর মধ্যে তরুণ বেকারের সংখ্যা বেশি। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর, দেশের বেকার সমস্যা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশ গুরুত্বারোপ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই লক্ষ্যে সর্বমোট ২৮টি হাই-টেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, নাটোরের সিংড়ায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার।
এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটির নির্মাণকাজ চলছে। তুলনামূলক ধীর গতির কারণে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা পূরণ করাটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের সঠিক পরিচর্যা করলে উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী যারা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পৌঁছাতে পারে না কিন্তু নিজেদের শিক্ষিত দাবি করে কৃষি বা অন্য কাজ করতে আগ্রহী হয় না এই সংখ্যাটা ও একেবারে কম না। বেকার পরিসংখ্যানে এদের অংশটি বেশ প্রভাব বিস্তার করে আছে। এই অংশকে নিয়ে যদি বিশেষ পরিকল্পনা করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বেশ ভালো ফলাফল আশা করা যায়।
হাই-টেক পার্ক বা আইসিটি পার্কগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সফটওয়্যারের পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের প্রতি গুরুত্ব প্রদান, সারাদেশে স্বল্প খরচে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ, ফ্রিল্যান্সারদের লেনদেন প্রক্রিয়া সহজকরণ, আইসিটি উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ঋণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, সরকারিভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বিনামূল্যে তরুণ বেকারদের বিভিন্ন ট্রেডে যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে সেটা নিয়মিতকরণ এবং মান বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে প্রত্যাশা সেটা পূরণ হবে এবং ঐ খাতে বেশ প্রবৃদ্ধিও অর্জন সম্ভব হবে।
n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর