সড়কপথে শৃঙ্খলা আনতে না পারলে নিরাপদ সড়ক কল্পনা করা যাবে না। নিরাপদ সড়কের সঙ্গে জড়িত যানবাহন, পরিবহন মালিক, চালক, বিআরটিসি, ট্রাফিক পুলিশ, আইন প্রয়োগ ও জনগণ। যানবাহনের কথাই ধরি—যানবাহনগুলো কি ত্রুটিমুক্ত? ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল করে কিভাবে? রাস্তায় চলাচলের গতিসীমা থাকে কোথাও কম কোথাও বেশি, নিয়ম মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না তা ধরার জন্য সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ বেশি হলে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা সমপূর্ণ নিষিদ্ধ। মাদকাসক্ত চালক ধরা পড়লে জেল-জরিমানাসহ কঠোর সাজার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সর্বোপরি অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স যেন দেওয়া না হয়। ড্রাইভারদের হতে হবে সুপ্রশিক্ষিত এবং মাদকাসক্তমুক্ত। ড্রাইভারদের জন্য থাকতে হবে বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। গাড়িতে গাড়িতে যেন ওভারটেকিং না হয়। বিআরটিসি এবং ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। সাধারণ পথচারীদের যেখানে সেখানে রাস্তা পার না হতে না দিয়ে জেব্রাক্রসিংয়ে রাস্তা পারাপারে বাধ্য করতে হবে। প্রশাসনের উচিত ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা, যাতে ফুটপাতগুলোতে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারেন পথচারীরা। যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা তদারকি করা উচিত। সড়কে মৃত্যু কারো কাম্য নয়। সড়কের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই যদি সুশৃঙ্খল না হয় এবং দোষীদের যদি শাস্তির আওতায় আনা না হয় তাহলে নিরাপদ সড়ক স্বপ্নই থেকে যাবে।
শ্রীধর দত্ত
মেলঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম