চট্টগ্রামে গণপরিবহন সেক্টর জিম্মি করে রেখেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের একটি চক্র। তারা পরিবহন খাতকে ব্যবহার করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন পরিবহন খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে বাধাগ্রস্ত করছে তারা। পরিবহন সেক্টরকে জিম্মি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এসব লোকদের চিহ্নিত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানায়। রুটে টাকা ছাড়া নতুন গাড়ি যুক্ত করা যাচ্ছে না। এসব টাকারও কোনো হিসাব নেই বলে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। নগরীতে প্রতিটি রুট নিয়ে চলছে চাঁদাবাজি।
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, তারা ইতিমধ্যে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ শুরু করেছে। প্রথম দফায় ১০ ও ৬ নম্বর রুটে কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে রুটে গণপরিবহনের গাড়ি অনেক কমে গেছে। তারপর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে সিএমপি অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আমীর জাফর ইত্তেফাককে বলেন, যানবাহন নিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে আমরা পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনা করেছি। বৈঠকে সহযোগিতার কথা বললেও বাস্তবে পাওয়া যায় না। মিটিংয়ে এক কথা পরে আবার অন্য কথা বলে তারা। তবে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হঠাত্ গাড়ি বন্ধ করা বেআইনি। এটা আইনগত ভাবে অপরাধ। এছাড়া গাড়ির কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট আপডেট করা নিয়ে বিআরটিএর গাফিলতি রয়েছে। তাদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। দেখা যাচ্ছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালক ও মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গেলেই তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলছে। রাস্তায় চলাচলরত গণপরিবহনের অধিকাংশ গাড়িই ত্রুটিপূর্ণ। গাড়ির গ্লাস ভাঙা, সামনের লাইট নষ্ট, গাড়ির আবরণ উঠে গেছে, সিট ভাঙা, ফিটনেস আপডেট নেই, চালকের লাইসেন্স নেইসহ নানা সমস্যা। তারপরও সড়কে ত্রটিপূর্ণ গাড়ি চলছে। ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে। চট্টগ্রামে বিআরটিএতে বর্তমানে তিন জন ম্যাজিষ্ট্রেট রয়েছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম.মনজুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আইনে রয়েছে গণপরিবহনের গাড়ি হঠাত্ চলাচল বন্ধ করতে পারবে না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গাড়ির ত্রুটির জন্য মালিক শ্রমিক দুই জনই অপরাধী। এতদিন অপরাধের জন্য শ্রমিককে শাস্তি দেওয়া হলেও গাড়ির মালিককে দেওয়া হয়নি। এখন থেকে মালিককেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থলে না গিয়ে যাত্রীদের মাঝ পথে নামিয়ে দিচ্ছে। অধিকাংশ গাড়িই ত্রুটিপূর্ণ। তবে ট্রাফিক পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এসব ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সহজেই বন্ধ করা যাবে।’
এদিকে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল বলেন, গাড়ির ত্রুটি থাকলে আইন অনুযায়ী জরিমানা করতে পারে। কিন্তু গাড়ির মালিকদেরকে যদি জেলে পাঠানো হয় তাহলে পরিবহন খাতে বিনিয়োগে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, প্রাইভেট গাড়ির চারটি ও অন্য গাড়ির পাঁচটি ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে ত্রুটিমুক্ত বলা হয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও গাড়ির ইনসিওরেন্স।