কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি সিকদার পাড়া এলাকার কেফায়েতুল ইসলাম। মামলায় ঘুষের টাকা না পেয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে এক জনের অধিগ্রহণের টাকা অন্যদের দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্য আসামিরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদ, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মোমিনুল হক, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তী, কানুনগো মিন কান্তি চাকমা, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কেশব লাল দাস, সার্ভেয়ার ইব্রাহিম, সার্ভেয়ার সিরাজুল হয়দার, সার্ভেয়ার আবুল খায়ের ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি লাইল্যাঘোনার অলি আহমদ, মো. সেলিম প্রকাশ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মাতারবাড়ি এলাকার জামাল উদ্দিন, তার মেয়ে তাহেরা বেগম, আলী আসকরের মেয়ে রোমেনা আফরোজ, মগডেইল এলাকার আবু ছালেক।
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ি মৌজায় ৩ দশমিক ৭৬ একর জমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পেতে রোয়েদাদ ১৩৭ মূলে তাকে ৭ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণ প্রদান করার শর্তে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ৫০ হাজার টাকা তিনি পরিশোধও করেন। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা সাত দিনের মধ্যে দিলে ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য টাকার চেক প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আসামিরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঘুষ নিয়ে অলি আহমদ, মনোয়ারা বেগম, জাামাল উদ্দিন, তাহেরা বেগম, রোমেনা আফরোজ ও আবু ছালেককে ১৯ লাখ টাকা দিয়ে দেন। বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সেখানে এমন দুর্নীতিতে বিস্মিত হতে হয়। এদিকে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আপোষ মীমাংসা করতে তদবির শুরু করেছেন বলেও দাবি করেছেন এ আইনজীবী।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, মামলার বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগের বিষয়ে জানি না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মামলার কপি আনতে বলেছি। যেহেতু আমার নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস, তাই আমাকেও দায়ী করা হয়েছে। ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে আসল দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এরআগে অধিগ্রহণের টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমসহ সার্ভেয়ার মিলে বেশ কয়েকজন কারাভোগ করে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছেন। এর রেশ না কাটতেই আবারো একই অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।