আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে নিজের দলেই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেছেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুদ্ধি অভিযানে প্রভাবশালী কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযানে নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন। মূল দল বা সহযোগী সংগঠন কিংবা এমপি যে যত প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তারা সবাই নজরদারিতে আছেন।’
এর আগে অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রী তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একজন জনপ্রিয় নেতা। ১৯৭৫ সালের পরে তার মতো জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী নেতা বাংলাদেশে দেখা যায়নি। একাদশ নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাশেদ খান মেনন তার বক্তব্য থেকে অলরেডি ইউ-টার্ন নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বক্তব্য খণ্ডিত আকারে গণমাধ্যমে এসেছে। তার দলে তার অবস্থান এবং চলমান পরিস্থিতিতে তার অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা আমার সমীচীন নয়। তার পরিণতি ভবিষ্যতে জানা যাবে। ১৪ দলের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে, তারা আমাকে বলেছেন, রাশেদ খান মেননের বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। আরো আলাপ-আলোচনা করে তার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল একটি শক্তিশালী জোট। এই জোট থেকে একজন বেরিয়ে গেলে জোট ভেঙে যাবে না। কোনো ধরনের খারাপ প্রভাব পড়বে না। তবে রাশেদ খান মেনন এখন তার বক্তব্য ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে বলছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের যে উন্নয়ন কাজ করেছে তার জন্য বিএনপির আন্দোলন হালে পানি পাচ্ছে না। শত চেষ্টা করেও তারা জনগণের সাড়া পাচ্ছেন না। বিএনপির আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই। তারা বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্দোলন করতে চেয়েছিল। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা আন্দোলনকে ইস্যু করতে চেয়েছিল। ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ভোলায় গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি জানে এখন আন্দোলন করার মতো কোনো ইস্যু তারা পাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত।
আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুর রহমান সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসলামুল হক আসলাম, নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি প্রমুখ। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সম্মেলন শেরে বাংলানগরে বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্থান ঠিক করে দিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়।