নির্ধারিত সময়ে পুরো সংস্কারে ব্যর্থ অ্যালায়েন্সভুক্ত সোয়া দুইশ’ কারখানা

আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তামান উন্নয়নে তদারক কাজ শেষ করে চলতি মাসে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে যাচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার সরবরাহকারী ৭১৪টি কারখানা ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। এর মধ্যে পুরো সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছে ৪২৮টি কারখানা। আর শতভাগ সংস্কার সম্পন্ন করতে পারেনি প্রায় সোয়া দুইশ’ কারখানা। তবে সার্বিকভাবে মোট ত্রুটির ৯৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অ্যালায়েন্সের পাঁচ বছরের কার্যক্রম শেষে গতকাল এ জোটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এসব তথ্য জানা যায়। 

এছাড়া সংস্কারে পিছিয়ে থাকা কিংবা অ্যালায়েন্সকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ১৭৮টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব কারখানা অ্যালায়েন্সভুক্ত ব্র্যান্ড কিংবা বায়ারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।

অ্যালায়েন্সের ওই বিবৃতিতে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম ও বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশে অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকায় দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত জিম মরিয়ার্টি গত পাঁচ বছরে অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানার নিরাপত্তা মানের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই অগ্রগতিকে ‘অভাবনীয়’ উল্লেখ করে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে চলমান প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে এই জোটের সদস্য ব্র্যান্ডগুলোর কাছে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর এই ধারাবাহিকতা রক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন আরো প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। এরপর বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের গার্মেন্টস তথা শিল্প খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করে এমন ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিও চাপ তৈরি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা ও সংস্কার কার্যক্রম তদারকির উদ্দেশ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে আলাদা দুটি জোট গঠিত হয়। পাঁচ বছর শেষে গত জুনে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার কথা।

অবশ্য এ কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য স্বাধীন, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর তদারক সংস্থা গঠন করার তাগিদ জানিয়ে আসছে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স।

গতকাল অ্যালায়েন্সের বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যালায়েন্স কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর ওই জোটের ব্র্যান্ডগুলো স্ব স্ব কারখানাতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্র্যান্ডগুলোর শর্ত থাকবে অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে অর্জিত নিরাপত্তামানের ধারাবাহিকতা যাতে বজায় থাকে।