ধামরাইয়ে দুধেল গাভী পালনে লাভবান জামেলা

গরু মোটাতাজা করে গেরস্ত বা খামারিরা লাভবান হলেও দুধের চাহিদা, ভালো দাম ও নিয়মিত আয়ের কারণে দুধেল গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তা বা খামারিদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এমনই একজন খামারি জামেলা। ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকায় এসডিআইয়ের নারী উদ্যোক্তা জামেলা বেগমের খামারে গিয়ে দেখা যায় তার খামারে কয়েকটি দুধেল গাভী রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলেই তারা খামার পরিচালনা করছেন। তারা জানান, খামারের প্রতিটি গাভী প্রতিদিন ১৮ থেকে ২২ লিটার দুধ দেয়। প্রতি লিটার দুধের গড় বিক্রয়মূল্য ৫৫ টাকা। প্রতিটি গাভীর পেছনে দৈনিক খরচ হয় দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা। জামেলা জানান, দুধেল গাভী পালনের সুবিধা হলো দুধ বিক্রি করে প্রতিদিন যে আয় হয় তা থেকে গাভী পালন, নিজেদের খরচ মিটিয়েও নিয়মিত টাকা সঞ্চয় করা যায়। তাই দুধেল গাভী পালন করে তারা লাভবান হচ্ছেন এবং বেশ ভালো আছেন। বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক জানান, ধামরাইয়ে তাদের প্রায় ছয় হাজার উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা দুধেল গাভী পালন করছেন। গাভী পালনকারী এই উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই নারী। নিজেদের দুধের চাহিদা মিটিয়ে দুধ বিক্রি করে প্রতিদিন নগদ অর্থ আয়ের সুবিধা পাচ্ছে বলে দুধেল গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাঈদুর রহমান জানান, বাজারে দুধের পর্যাপ্ত চাহিদা, উপযুক্ত মূল্য ও নিয়মিত আয়ের কারণে দুধেল গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও এই গাভী পালনকে উত্সাহিত করছি।

জানা যায়, গরু মোটাতাজাকরণ লাভজনক হলেও গরু পালন করতে দরিদ্র কৃষক বা নিম্নআয়ের গৃহস্থ এমনকি অনেক সময় বড়ো খামারিদেরও লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। কারণ মোটাতাজা গরু বিক্রির দিন পর্যন্ত ঐ গরুর পেছনে খাদ্য, চিকিত্সা ও লালন পালনের জন্য শুধু ব্যয় করেই যেতে হয়, কোনো প্রকার রিটার্ন আসে না। এককালীন অর্থ আসে গরু বিক্রির পর। আর যদি দুর্ভাগ্যক্রমে গরু চুরি কিংবা মরে যায় সেক্ষেত্রে খামারি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন। কিন্তু দুধেল গাভী পালনের সুবিধা হলো প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তাতে গরুর খাদ্য, চিকিত্সা ও লালন পালনের ব্যয় মিটিয়েও খামারি নিজের সংসারের জন্যও খরচ করতে পারেন। আবার অর্থ সঞ্চয়ও করতে পারেন। তাছাড়া মূলধন হিসেবে গাভী এবং বাছুর তো থেকেই যায়।