গুলশাখালী উপজেলা চাই

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলাধীন কাপ্তাই লেকের পূর্বপাড়ে অবস্থিত ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী এবং বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন আমতলী ইউনিয়নকে নিয়ে গুলশাখালী উপজেলা করা হোক। এই চারটি ইউনিয়ন বর্তমান উপজেলা সদর থেকে লেক দ্বারা বিচ্ছিন্ন, সরকারি সেবা পেতে স্থানীয় জনগণকে আট থেকে ৩৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। লেকে বছরের পাঁচ মাস পানি থাকে, এ সময় যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা সহজ। অবশিষ্ট সাত মাস এই পথ পাড়ি দেওয়া কষ্টকর। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এলাকাটি বরাবরই উন্নয়ন বঞ্চিত। এমনকি ভালো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখানে গড়ে ওঠেনি। তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাসেবা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থাও নেই। এখানকার সাধারণ মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিকসহ যে কোনো সেবা পেতে হলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চার ইউনিয়নের মোট আয়তন ২৮৯.১৪৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৫২৮২৯ জন। যা আয়তনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম উপজেলা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার প্রায় ছয়গুণ এবং জনসংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্রতম উপজেলা বান্দরবানের থানচির চেয়ে দ্বিগুণ। তাছাড়া উল্লিখিত চারটি ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ। ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে গুলশাখালী উপজেলা গঠন একান্ত প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

সৈয়দ ইবনে রহমত

যুবলক্ষ্মী পাড়া, গুলশাখালী, লংগদু, রাঙ্গামাটি