চলচ্চিত্র নির্বাচন একটি উত্সব। এটি আসলে ওই রকম নির্বাচন নয়। আাামাদের ভেতরে পারস্পরিক বিরোধ নেই। এটি মূলত একটি মালাবদলের অনুষ্ঠান।—এসব কথা দীর্ঘদিন ধরে একাধিক শিল্পী বলে থাকলেও আদতে এর কার্যকারিতা পাওয়া গেল না। একে অপরকে নানা প্রশ্নবানে বিদ্ধই শুধু নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে শুরু করে নানা আর্থিক দুর্নীতির কথা বারবার শোনা গেল একে অপরের বিরুদ্ধে।
সেই অবস্থায় আজ এফডিসি প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। যদিও এই নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য উকিল নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছেন একটি পক্ষ নির্বাচন কমিশন বরাবর। কিন্তু তা নির্বাচন কমিশনারের নামের বানান ভুল দেখিয়ে গৃহীত হয়নি।
এছাড়া গণমাধ্যম গত প্রায় দেড়মাস চলচ্চিত্র তারকাদের নতুন কোনো চলচ্চিত্রের খবর নয়, বরং শিল্পী সমিতির একের পর এক বিভিন্ন সম্পর্কের বাইরের তির্যক মন্তব্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল। এত কিছুর পরও আজকের নির্বাচন নিয়ে এক ভিন্ন কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে সবার কাছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি সর্বাত্মকভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা করছি। আর যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে দু-একটা এগুলো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা থাকলে হতেই পারে।’ সেটিকেও আমরা খুব নান্দনিকভাবেই সমাধান করার চেষ্টা করেছি।
তবে শিল্পী সমিতি নির্বাচন প্রথমবারের মতো অবাক কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে যখন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, ডি এ তায়েবকে নিয়ে একটি প্যানেলে রিয়াজ, ফেরদৌস, পপি, পূর্ণিমাসহ তারকাবহুল একটি প্যানেল করার পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু হঠাত্ করেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না কারো ইশারায় এমনটা অভিযোগ করেন খোদ মৌসুমীই। অপরপক্ষ মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান তাদের পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেন এফডিসিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে। তারও সমালোচনা করেছেন অনেকে।
পৃথক পৃথকভাবে একাধিক গণমাধ্যমে ইন্টারভিউ দিয়েছেন মৌসুমী, মিশা সওদাগর, জায়েদ খান। তাদের কথাতে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগই শোনা যায়। সর্বশেষ ভোটের আগের দিন অর্থাত্ গতকাল দুই পক্ষ আলাদা আলাদা হয়ে প্রেস ব্রিফিং দেন। মিশা-জায়েদদের আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা প্যানেল থাকলেও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমীকে ওপেন সমর্থন করেই একজোট হয়ে প্রেসমিটে অংশ নেন।
দুই পক্ষের প্রেস ব্রিফিংয়ে মৌসুমীর নির্বাচনী প্রচারণায় রিয়াজ, অমিত হাসান দু’জনই পূর্ববর্তী কমিটির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। শিল্পীদের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হবে এ ব্যাপারেই জোর দেন মৌসুমীসহ অন্যান্যরা। একইসঙ্গে রিয়াজকে নানাভাবে কটুক্তি করেছিলেন জায়েদ খান। তারও জবাব দেন।
অপরপক্ষে জায়েদ খান তার বক্তব্যে মৌসুমীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যাকে ফোনে পাওয়া যায় না। তাকে কিভাবে নেতা মানবো। এরা সবাই মিথ্যে বলছে ইত্যাদি কথা বলার এক পর্যায়ে চিত্রনায়ক রুবেল অর্থাত্ সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী বলেন মিশা সওদাগর হারলে আমরা সকলেই পদত্যাগ করবো।’
অর্থাত্ মৌসুমীকে প্রথমেই সকলে অনাস্থা প্রকাশ করেন। যে নির্বাচনকে উত্সব উত্সব বলে এতদিন টকশোতে বলা হচ্ছিল, সেই নির্বাচনকে ঘিরে পারস্পরিক প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালে এই কথা বলতে পারেন রুবেল তা কারোরই বোঝার ক্ষমতা নেই।
তাই আজকের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, অস্থিরতা, কৌতুহল সবই রয়েছে। কারণ এর আগে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে এত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ কখনো দেখা যায়নি।
একদিকে যেমন হল বন্ধ হচ্ছে ক্রমশ, অন্যদিকে শিল্পীদের হাতে ছবি নেই। সেই জায়গায় শিল্পী সমিতির এই পক্ষ-বিপক্ষগুলো কতটা মোহতাড়িত করে শিল্পীদের তা তারাই বলতে পারবেন।
কিন্তু দর্শকেরা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে দেখতে যান না। তারা যান টিকেট কেটে ব্যবসাসফল নায়ক-নায়িকা-ভিলেন দেখতে। সেই পরিবেশ তৈরির সহায়ক হবে কি-না নবনির্বাচিত শিল্পী সমিতির প্যানেল এটাই এখন সবার প্রশ্ন।
বিজয়ীদের বিনোদন প্রতিদিনের পক্ষ থেকে অগ্রিম অভিনন্দন।