মুগ্ধতার পাশে প্রতিজ্ঞা

চওড়া সড়কের পাশ দিয়ে একটা সরু রাস্তা নেমে গেছে।

চা বাগানের পাশ ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, ভিন দেশে এসে পড়েছি। হঠাত্ করেই রাস্তা শেষ হয়ে বিশাল এক অট্টালিকা মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো। চা বাগানের মাঝখানে যেন কোনো প্রদীপের দৈত্য এসে বসিয়ে দিয়ে গেছে চোখ জুড়ানো এক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

বাইরে থেকে আসা দর্শক, সাংবাদিকরা তো বটেই, খেলোয়াড়রা পর্যন্ত বিস্মিত ও মুগ্ধ সিলেট স্টেডিয়ামের এই রূপ দেখে। সিলেট আর্ন্তজাতিক স্টেডিয়াম এরই মধ্যে ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন পার করে ফেলেছে। টি-টোয়েন্টি পার করে টেস্ট অভিষেকও হয়ে গেছে এই স্টেডিয়ামের। আজকের ম্যাচ দিয়ে সিলেট পা রাখতে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের দুনিয়ায়।

বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার এখানে টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ও বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। দু’জনই আজ এখানে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন। মাশরাফি অবশ্য এখানে আগে বিপিএলের দুটো ম্যাচ খেলেছেন। তারপরও তার কণ্ঠে রভম্যানের মতোই মুগ্ধতা এই স্টেডিয়াম নিয়ে।

মুগ্ধতাটা আগে রভম্যানই ছড়ালেন। স্টেডিয়ামটার প্রশ্ন উঠতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠলেন, ‘এটা অসাধারণ একটা স্টেডিয়াম। আমি এখানকার সুযোগ সুবিধা দেখে অবাক হয়ে গেছি। আমি আসলেই খুব বিস্মিত। স্টেডিয়ামটা দেখতে খুব সুন্দর।’

রভম্যানের চেয়ে অভিজ্ঞতা এখানকার একটু বেশি হলেও মাশরাফির কণ্ঠেও পাওয়া গেলো নতুনের উত্তেজনা। তিনি এই স্টেডিয়ামকে সেরার স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, ‘এই মাঠ অবশ্যই বাংলাদেশের সেরা। সিলেট এমনিতেই সুন্দর। স্টেডিয়ামের আশেপাশের এলাকাটাও খুব সুন্দর। ভিউয়ের কথা যদি বলেন তাহলে তো অবশ্যই এটা অন্যতম সেরা।’

এখানকার উইকেট নিয়েও দুই অধিনায়ক একইরকম অবস্থায় আছেন। কেবল চোখে দেখা আর অনুমান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক বললেন, ‘মনে হচ্ছে এটাও ‘টিপিক্যাল’ বাংলাদেশি উইকেট—নিচু বাউন্সের ও ধীরগতির। ফলে আমরা আশা করছি আমাদের দল এখানে মানিয়ে নিতে পারবে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য আরেকটা জয় এনে দিতে পারবে।’

মাশরাফিরও মনে হচ্ছে, এই উইকেট অনেকটা মিরপুরের মতো হবে। সেই সাথে তার মনে হয় এখানে ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।

তবে উইকেট যেমনই অচেনা হোক, যতই রহস্য থাকুক; মাশরাফি মনে করেন, সুবিধাটা বাংলাদেশই পাওয়ার কথা। কারণ এটা নিজেদের দেশ, এখানে সমর্থক নিজেদের থাকবেন। আর এই সুবিধাটা নিতে মুখিয়ে আছেন মাশরাফিরা, ‘এটা আমদের দেশ, আমাদের উইকেট, কন্ডিশন, সাপোর্টার আমাদের ফেভারে থাকবে। ক্রিকেট এখানে অত খেলার সুযোগ পাইনি, তার মানে এই না যে আবহাওয়া বা সব বদল হয়ে যাচ্ছে।’

তবে এতোকিছুর মধ্যে একটা নেতিবাচক আলোচনাও আছে। এই সিলেটে এখনও পর্যন্ত কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। ফলে সংক্ষিপ্ত একটা ইতিহাসের বিপক্ষেও লড়তে হবে মাশরাফিদের। মাশরাফি বলছিলেন, এই পুরোনো কথা তারা মাথায় নিয়ে ঘুরছেন না, ‘পেছনেরটা মনে করে কোনো লাভ নেই। কালকে আমাদের নতুন ম্যাচ। খুব ব্যাকফুটে আছি তাও না। ১-১ সমতায় আছে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। এটা এমন না যে আমাদের সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। ইতিবাচক খেলতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে আপনি প্রত্যাশা করবেন ওরা বেস্ট ক্রিকেট খেলবে কালকে। আমাদেরকেও বেস্ট ক্রিকেট খেলতে হবে। এ গ্রাউন্ডে আগে কি হয়েছে সেটা ভেবে মাঠে নামলে আরও খারাপ হবে।’