বুধবার মধ্যরাতে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অবসান হয়েছে ক্রিকেটের অচলাবস্থার। স্বস্তির বাতাস ফিরেছে ক্রিকেটে। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে মুখর হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়াম। আজ থেকে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। জাতীয় লিগের (এনসিএল) বিভাগীয় দলগুলোর ক্রিকেটাররা ফিরে গেছেন বিভিন্ন ভেন্যুতে। আগামীকাল শুরু হবে এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ড।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপক্ষই হাসিমুখে বের হয়েছে। তারপরও ক্রিকেটারদের অনেকের চোখে-মুখেই ছিল শঙ্কার মেঘ। বিসিবি ৯টি দাবি মেনে নিয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে এনসিএল, বিসিএলের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটাররা। বিসিবি দ্রুততর সময়ে ঘোষণা দিবে বলেছে, ক্রিকেটাররা এখন সেই সময়টার অপেক্ষায় আছেন।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে বেতন, ম্যাচ ফি। আদৌ কতভাগ বাড়ানো হবে, সেসব নিয়ে চিন্তায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা। কারণ নিজেদের চেয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্যই এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা। যাতে সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটার ও ক্রিকেটের উন্নতি হয়।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের নিয়মিতমুখ এক ক্রিকেটার গতকাল বলেছেন, ‘সবকিছু ভালোভাবে শেষ হয়েছে। মিটিংয়ে ক্রিকেটারদের বেশ সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন বিসিবির সবাই। সবার মুখেই লাজুক হাসি ছিল। কারণ আমরা তো আসলে একটা পরিবার। তারা আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। আমরা সবাই এখন ক্রিকেটে ফিরছি। তারা বলেছেন, দ্রুত সবকিছু করে দিবেন। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি, কবে ঘোষণা আসবে। কতভাগ বাড়ানো হবে ম্যাচ ফি, বেতন। এনসিএলের ম্যাচ ফি ১ লাখ করার দাবি ছিল আমাদের, সেটা কতটুকু বাড়ছে দেখার বিষয়।’
বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের পর ক্রিকেটাররা মিরপুরের ড্রেসিংরুমে আবারও বসেছিলেন একসঙ্গে। সেখানে নিজেরা আলোচনা করেছেন ঘণ্টাব্যাপী। শীর্ষ ক্রিকেটাররা সবার উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিসিবি আশ্বাস দিয়েছে দাবি মানার। এখন সবাই আবার ক্রিকেটে ফিরুক। দাবি দ্রুত মানা না হলে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাবেন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা।
বিশেষ করে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটাররা। কারণ বিসিবির বড়ো কর্তাদের কাছে যাওয়ার সুযোগ সব ক্রিকেটারের নেই। কার্যত এই চার সিনিয়রকেই ভরসা মানছেন সবাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আবারও আলোচনা করেছি। আমরা যারা জাতীয় দলের বাইরে আছি, তাদের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে সাকিব ভাইদের। আমাদের ঐক্য যেন ঠিক থাকে, সে ব্যাপারে কথা হয়েছে।’
দাবিগুলোর বিপরীতে বিসিবির দেওয়া আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আবারও সংঘবদ্ধভাবেই পদক্ষেপ নিতে চান ক্রিকেটাররা।
অভিজ্ঞ এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। এ কারণেই আমরা একত্রিত হয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে আমাদের ঐক্য ঠিক থাকবে, যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়। এ কারণেই আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। সাকিব-তামিমরা সবসময়ই বোর্ডের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তারা যেন কোনো কিছুতে প্রভাবিত না হয়। আমাদের দাবিগুলো যেন বাস্তবায়ন হয়।’
ক্রিকেটারদের আশা, এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ড চলাকালীনই দাবিগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিবে বিসিবি। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী ঘোষণা আসবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে ক্রিকেটারদের মনে।