ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


বাজেট কর্মমুখী হয়েছে হতাশার দিকও আছে

বাজেট কর্মমুখী হয়েছে হতাশার দিকও আছে
বৃহস্পতিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে বাজেট স্বাক্ষর করা হচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট সম্পর্কে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে বাজেটে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগের কথা এসেছে। এটা শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব হয়েছে। তবে রপ্তানি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ক্যাশ ইনসেনটিভ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার পর অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।

পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার ছিল সে অনুযায়ী বাজেট দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের বেশকিছু বিষয় এ বাজেটে তুলে আনা হয়েছে। যেমন- তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগানো, উদ্যোক্তা তৈরি, শহরের সুবিধা গ্রামে, দারিদ্র্য বৈষম্য নিরসন ও ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। আমি মনে করি এগুলো বাজেটের প্রশংসনীয় দিক।

তিনি বলেন, বাজেটে সমস্যা হচ্ছে দুটো। এক, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা নিয়ে যা বলা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। আরো সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত ছিল। তবে আমি মনে করি ব্যাংকিং কমিশন যদি দ্রুত গঠন করা হয় তাহলে কমিশন এ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসতে পারবে। দুই, লক্ষ্যমাত্রা যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করাই বড় কথা। এটা বড় বাজেট। প্রতিবছরই দেখি বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকে যায়। ঘাটতি থাকে রাজস্ব আদায়েও।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে কতগুলো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। আমাদের ধারণা ছিল সেই প্রতিশ্রুতিগুলোকে উল্লেখ করে, সেগুলোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সেরকম একটা ব্যবস্থা আমরা লক্ষ করব। দুঃখজনকভাবে আমরা এ মুহূর্তে তা পেলাম না।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, এটি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাজেট। এত বড় বাজেট কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া নাই। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করার জন্য কোন মন্ত্রণায়লয় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সে বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার ছিল। তবে বাজেটে অনেক ভালো দিক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নতুন বাজেটে শতভাগ খুশি হতে না পারলেও অন্তত ৭০ ভাগ খুশি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রণোদনা হিসেবে দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

তবে এ বিষয়ে রুবানা হক বলেন, ক্যাশ ইনসেনটিভ আসলে অন্তত ছোট্ট একটি ফিগার। পোশাক খাত এমন একটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে এ ইনসেনটিভ আমরা যত্সামান্য মনে করি। অন্ততপক্ষে আরো তিন পারসেন্টও যদি আমাদের দিতেন, তাহলে লাভ হতো।

রুবানা জানান, বিজিএমইএ আটটি পণ্যে সেফটি ইকুইপমেন্ট চাইলেও তার পাঁচটিতেও পাওয়া নিয়ে হতাশ তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসির তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন।

ডিসিসিআই সভাপতি প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি ধারাবাহিক বাজেট বলে মন্তব্য করেন, তবে এ ধরনের বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধূরী (পারভেজ) বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ১০% প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। এছাড়া বাজেটে আরো কিছু ভালো দিক রয়েছে। তবে আমাদের সামনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি, বাজেট ঘাটতি। এসব বড় বড় চ্যালেঞ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচি প্রয়োজন।

বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয় হয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আরো বেশি আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছে ডিএসই। ডিএসই বলছে, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের সংস্কারমূলক দিকনির্দেশনা ও একগুচ্ছ প্রণোদনা প্রদান করে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। পুঁজিবাজারকে সম্প্রসারণ ও গতিশীল করার জন্য সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করায় ডিএসই নতুন অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আরো বাড়ছে

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে নিবন্ধন ফি এবং স্ট্যাম্প ফি হ্রাস করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাকে যুগান্তকারী আখ্যায়িত করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, সরকারের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবের ফলে আবাসন খাতে বিদ্যমান স্থবিরতা বহুলাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন