এবার মসজিদে ভিন্ন প্রচারণা পুলিশের

অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে
এবার মসজিদে ভিন্ন প্রচারণা পুলিশের
প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

এবার মসজিদে ভিন্ন প্রচারণায় নেমেছে পুলিশ। শুক্রবার জুমার দিন খুতবার আগে পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের সামনে মাদক, জঙ্গিবাদ, যৌন হয়রানি, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলছেন। এমনকি থানায় মামলা বা জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না সে কথাও জানিয়ে দিচ্ছেন উপস্থিত মুসল্লিদের। এরই মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ ১৩ জেলার ৯৬ থানায় এই কার্যক্রম শুরু করেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এমন একটি প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলে আসছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ এই কার্যক্রম শুরু করেছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস থেকে সব জেলায় একটি নির্দেশনার কপি পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা সার্কেল এএসপি, ওসি বা সাব ইন্সপেক্টরদের মধ্যে যারা সুন্দর ও সাবলীলভাবে বক্তব্য দিতে পারেন তারা মসজিদে গিয়ে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

নিজের পরিচয় দেওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইমামকে সম্মান প্রদর্শন করেই বক্তব্য দিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকাসক্ত, কিশোর অপরাধী, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, থানার ওসিদের কাছে যেতে দালাল লাগে না, ৯৯৯ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা, থানায় জিডি মামলা বা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো টাকা লাগে না, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চোর, ছিনতাইকারী, সাইবার ক্রাইম, গুজবে কান না দেওয়াসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ বা অপরাধীদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে।

গত শুক্রবার এরই মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার ৯৬ থানার সবগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পরিদর্শক এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশে আমরা আমাদের থানার সবগুলো মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের প্রচারণা চালিয়েছি। আমরা আশা করছি, এই প্রক্রিয়ার ফলে অপরাধ কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলার কাজে সম্পৃক্ত হবে।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা মসজিদে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। শিগিগরই মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই ধরনের প্রচারণা চালানো হবে।

এর আগে এই ৯৬ থানায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। সেই ক্যামেরাগুলো রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে বসেই মনিটরিং করা হচ্ছে। এক জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি টিম ২৪ ঘণ্টা ঐ ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করছেন। কোনো থানায় অযথা কাউকে হয়রানি করতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশনা দিচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে থানায় হয়রানি কমেছে। নতুন প্রক্রিয়ায়ও সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলার কাজে আরো বেশি সম্পৃক্ত হবে।

ইত্তেফাক/এসসিএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x