ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
৩১ °সে


ভয়হীন জীবনের প্রত্যাশা

ভয়হীন জীবনের প্রত্যাশা
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। তাতে যোগ দেন হাজারো মানুষ: সামসুল হায়দার বাদশা

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা দূর করে দিয়ে সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল পহেলা বৈশাখের ভোর। আর মানুষ এসেছে দলে দলে। ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রায় মিলিত হয়ে সামাজিক অনাচার আর অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

তারা বলেছেন, নতুন বছর যেন শুভ হয়। নতুন বছরে যেন আর কোনো নুসরাতকে আগুনে পুড়তে না হয়। আর কোনো ভবনে আগুন লেগে যেন মানুষের মৃত্যু না হয়। মানুষ, রাষ্ট্র যেন আরো মানবিক হয়ে ওঠে।

নতুন বছরের শুরুতে মানুষে মানুষে মিলিত হবার এই যে প্রত্যাশা—এটাই গানের সুরে শক্তি হয়ে জেগে থাকুক, মিশে থাকুক মানুষের অন্তরে। সারাটা বছর। জীবন হোক ভয়হীন, চলাচল হোক উন্মুক্ত স্বাধীন— সেই প্রত্যাশার কথাও বললেন উত্সবে যোগ দেওয়া অসংখ্য মানুষ।

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পহেলা বৈশাখ উত্সব পালন করলো বাঙালি জাতি। চির নতুনের ডাক দিয়ে আসা পহেলা বৈশাখ রঙ ছড়িয়েছে বাঙালির মনে। গানে, কবিতায়, শোভাযাত্রার উচ্ছলতায় মানবিক সমাজ গঠনের কথাও বললেন সকলে।

গত রবিবার জাতি বরণ করে নিয়েছে ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে। রঙিন সাজ, শাড়ি পাঞ্জাবির বাহারি ডিজাইনের বর্ণিল পোশাক শিশুদের মুখে ফুটে ওঠা আনন্দের হাসি রং ছড়িয়েছে উত্সবে। রাজধানীর মানুষের স্রোত এসে মিলছিল ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। উত্সবে যোগ দিতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের সঙ্গে বাবা-মার হাত ধরে রমনামুখী হয়েছে শিশুরাও। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আর্চওয়ে পার হয়ে পার্কে ঢুকতে হয়েছে সকলকে। সকাল সাতটার আগেই রমনায় প্রবেশে দীর্ঘ লাইনে পড়তে হয় মানুষকে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা: ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রবিবার চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে সকাল ৯টায় শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগের ঢাকা ক্লাবের সামনে দিয়ে ঘুরে টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছিল চারুকলার শিক্ষার্থীদের তৈরি পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ ও বক, জাল ও জেলে, টেপা পুতুল, মা ও শিশুর মূর্তি। বিগত বছরের সব গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল পোশাকে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন মঙ্গল শোভাযাত্রায়। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুলিশের নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যেই এগিয়েছে শোভাযাত্রা। মাঝপথে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে আগে থেকেই ঘোষণা ছিল যারা শোভাযাত্রায় অংশ নিতে চাইবে তাদের সবাইকে চারুকলা চত্বর থেকে অংশ নিতে হবে। শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল র?্যাব, তারপর ডিবি পুলিশ, তাদের পেছনে সোয়াত এবং তাদের পরেই ছিল আর্মড পুলিশের অবস্থান। শোভাযাত্রার দুইপাশে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। যাতে মাঝপথে কেউ ঢুকতে না পারে। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য কবি মুহাম্মদ সামাদ, চারুকলা অনুষদের ডীন শিল্পী নিসার হোসেন প্রমুখ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনেক বিদেশিও অংশ নেন।

এর আগে ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বর্ষবরণ উত্সবের শুরু হয়। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ঐতিহাসিক আমতলার মুক্তমঞ্চে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে পরিবেশিত হয় শিশুদের বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উদ্যোগে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ওয়াইজ ঘাট, আহসান মঞ্জিল, মুন কমপ্লেক্স, পাটুয়াটুলী, বাটা ক্রসিং হয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসে। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘নদী’। আর মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল স্লোগান ছিল- ‘‘বাঁচলে নদী বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত মেলায় গ্রামীণ খাবার ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনার স্টল স্থান পায়।

বাংলা একাডেমি: বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি নববর্ষ বক্তৃতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বইয়ের আড়ং-এর আয়োজন করেছে। গত রবিবার সকালে একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। নববর্ষ-বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক মফিদুল হক। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন, কণ্ঠশিল্পী সেমন্তী মঞ্জরী, জুলি শারমিন, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মো. মশিউর রহমান রিংকু এবং ইসরাত জাহান জুঁই।

এছাড়া, শিশু একাডেমির সামনে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানেও মানুষের ঢল নেমেছিল। বর্ষবরণ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিল্পকলা একাডেমি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সুরের ধারা ও চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছিল নববর্ষের আয়োজন।

আরও পড়ুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে নারীর গোপন ভিডিও করায় যুবকের কারাদণ্ড

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন