সন্ধান মেলেনি তুরাগে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সিক্যাব ও চালকের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:৪৯

সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার সালেহপুর সেতুতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্যাক্সিক্যাব তুরাগ নদে পড়ে যাওয়ার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত গাড়ি কিংবা চালকের সন্ধান পায়নি ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল।

 

নিখোঁজের পরিবারের লোকজন ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। তারাও নিজ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে গতকাল থেকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল গাড়িটি ও চালককে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি শুরু করেছে।

 

 

গত রবিবার রাত ৮টার দিকে সাভার থেকে ঢাকাগামী একটি হলুদ রঙের ট্যাক্সিক্যাব ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সালেহপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে গাড়িটি দ্রুতগতিতে তুরাগ নদে ছিটকে পড়ে। সেতুর কাছেই মহাসড়কে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

 

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও সাত সদস্যের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নেয়। এসময় সনাতন পদ্ধতিতে অ্যাঙ্কর ফেলে গাড়ির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো ফল না পাওয়ায় তাদের পাশাপাশি নৌ-পুলিশের ৯ সদস্যের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। তারাও টানা চেষ্টা চালিয়ে গাড়িটির সন্ধান পায়নি। এছাড়া স্থানীয় অনেকেই নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও নৌকা নিয়ে প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যেই নিখোঁজ গাড়ি ও চালকের সন্ধানে নদে তল্লাশি চালাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে গাড়িটি খুঁজে পেতে লে. সিরাজুস সালেকিনের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর সদস্যরা সাইট টোনার স্ক্যানার মেশিন দিয়ে নদের প্রায় এক বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে স্ক্যান করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : ‘নিউজিল্যান্ডার অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার নিতে চান না স্টোকস

অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে চালক ও গাড়িটির মালিকানা পরিচয় পাওয়া গেছে। আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের এক্সিও ২০১২ মডেলের ডুবে যাওয়া গাড়িটির চালকের নাম জিয়াউর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে।

 

ট্যাক্সিক্যাবের চালকের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জিয়াউর রহমানের ছোটো দুটি মেয়ে আছে। ঘটনা শোনার পর থেকে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেরে উপসহকারী পরিচালক মোস্তফা মহাসিন বলেন, ‘ট্যাক্সিক্যাবটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে ডুবুরিরা সন্ধান করে যাচ্ছেন।’

 

ইত্তেফাক/ইউবি