বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেলকে গতিশীল করা প্রয়োজন: হাইকোর্ট

আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেলকে গতিশীল করা প্রয়োজন: হাইকোর্ট
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

‘আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেল’ কে আরো কার্যকর ও গতিশীল করা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, আমরা দৈনন্দিন বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ইদানীং প্রায়শ লক্ষ্য করছি যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা এসব বিষয়ে পুলিশের আইজি বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন এবং করছেন। কিন্তু ওইসব অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। এ কারণে আমরা প্রত্যাশা করছি যে, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে ওই অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুততার সঙ্গে বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন এবং দোষী প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ অভিমত দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, আমরা মনে করি, আদালতের এ প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের আইজি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন এবং ‘আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেল’ এর কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করা হবে।

চলতি বছরের ১১ জুন পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় আটজনকে আসামি করে এজাহার দেন। ওই এজাহারে বলা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিরা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। কিন্তু ওই এজাহারটি গ্রহণ করেননি ওসি সাকিলউদ্দিন আহমেদ। পরবর্তীকালে বাদীকে ডেকে নিয়ে জব্দ তালিকা, সুরতহাল প্রতিবেদনসহ কিছু সাদা কাগজের ওপর স্বাক্ষর নিয়ে রাখে পুলিশ।

পরবর্তীকালে ওই সাদা কাগজে এজাহার টাইপ করে থানায় তা রেকর্ডভুক্ত করা হয়। বাদী কর্তৃক থানায় প্রেরিত এজাহারের বর্ণনার সঙ্গে দায়েরকৃত এজাহারের বর্ণনার মধ্যে অসঙ্গতি বিদ্যমান। সর্বোপরি এজাহারে আটজনকে আসামি করা হলেও পুলিশ কর্তৃক সৃজনকৃত এজাহারে কোনো আসামি নাম উল্লেখ ছিলো না। সেখানে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করা ছিলো। যা রাজশাহীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে। এজন্য থানার ওসিকে দায়ী করা হয়।

এ কারণে পুঠিয়া থানার তৎকালীন ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, ওসির মত থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। যা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ১৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারনে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও আনুষাঙ্গিক নথির ভিত্তিতে সাকিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করবে দুদক। হাইকোর্ট বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি রক্ষা ও উন্নয়ন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কার্যক্রমে অনবদ্য অবিস্মরনীয় ভূমিকা রেখেছে এবং রেখে চলেছে। এটা শুধু পুলিশ বাহিনীর জন্যই গৌরবের নয়, সমগ্র জাতির গৌরব। কিন্তু এই গৌরব গুটিকয়েক পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের অন্যায়, বেআইনি আচরণ ও অপরাধের কারণে ম্লান হতে দেয়া ঠিক নয়।

শিশুর পরিচয় প্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ

হাইকোর্ট বলেছে, শ্রমিক নেতা নুরুল হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এক শিশু। রাজশাহীর পুলিশ প্রেস-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। কিন্তু শিশু আইনের ৮১ ধারা অনুযায়ী শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ছবি বা তথ্য গণমাধ্যমে বা ইন্টারনেটে প্রচার করা যাবে না। যা দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সনাক্ত করা যায়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ঘটনায় একজন শিশুর জবানবন্দি প্রেস-বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে রাজশাহীর পুলিশ প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং আইন ভঙ্গ করেছেন। তাই শিশু আইন সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ফটক বন্ধ করে হামলা, ডাকসু ভিপিসহ আহত ১৩

প্রসঙ্গত নুরুল হত্যার পর এক শিশুৃকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই শিশুর দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রকাশ করে পুলিশ। যেখানে বলা হয়, শিশুকে অনৈতিক আচরণে বাধ্য করায় নুরুল ইসলামকে হত্যা করে। যদিও ওই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিলো তার পরিবার। তারা বলছে, মূল আসামিদের বাঁচাতে ও ঘটনা ভিন্নখাতে নিতেই এই শিশুকে আটক করা হয়েছে।

হত্যা মামলার তদন্ত করবে পিবিআই

গত ১১ জুন নিগার সুলতানা কর্তৃক প্রেরিত মূল এজাহারটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্সকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মামলাটির তদন্ত তদারকিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আদালত প্রত্যাশা করে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত