ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
২৮ °সে

৩২ বছর পর অবসান ছিনতাই নাটকের

৩২ বছর পর অবসান ছিনতাই নাটকের
সগিরা মোর্শেদ । ফাইল ছবি

১৯৮৯ সালে খুনের শিকার হয়েছিলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের তৎকালীন গবেষক সগিরা মোর্শেদ। ওই খুনের পর সাজানো হয়েছিলো ‘ছিনতাই নাটকের’। সেভাবে আদালতে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তার ভিত্তিতে ১৯৯১ সালে বিচারও শুরু হয়। ওই বছরই হাইকোর্টের আদেশে বিচারকাজ স্থগিত হয়ে যায়।

সেই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এই হত্যা মামলার বিচার স্থগিত থাকা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রথম শীর্ষ শিরোনামে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। পরে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্সকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে ছয় মাসের তদন্ত শেষে সগিরা হত্যার রহস্য উম্মোচন করে পিবিআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন তিনি। এ খুনে চারজনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এই চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর পর অবসান হলো সেই সাজানো ছিনতাই নাটকের।

অভিযোগপত্র দাখিলের আগে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারিবারিক কলহ থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছিলো। সেই খুনের মূল পরিকল্পনা করেন সগিরা মোর্শেদের স্বামী সালাম চৌধুরীর বড় ভাই বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০) ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪) । ডা. হাসানের শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান (৫৯) ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের ভাগ্নে মারুফ রেজা (৫৯) ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সগিরাকে খুন করতে সম্মত হন মারুফ রেজা। গত নভেম্বর মাসে গ্রেফতার হয়ে এই চার আসামিই কারাগারে আছেন। সকলেই খুনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরো পড়ুন : সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্য : কামাল হোসেন

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে: রাজারবাগে নিজেদের বাসার তৃতীয় তলায় স্ত্রী শাহীনের প্রস্তাবে ডা. হাসান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সগিরাকে ভয়ভীতি ও হেনস্তা করে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। একই বাসার শাহীনের ভাই আনাসও পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়। এরপর হাসান ও আনাস মিলে সগিরাকে শায়েস্তার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গেছে। ১৯৮৯ সালের ২৩ জুলাই ডা. হাসান নিউ ইস্কাটনের যমুনা ফার্মেসিতে পূর্বপরিচিত মারুফের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ জুলাই দিন নির্ধারণ করে তারা। নিজের মেয়েকে স্কুল থেকে আনার জন্য রিকশাচালক ছালাম মোল্লার রিকশা ভাড়া করে সিদ্ধেশ্বরী যান সগিরা। তাকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য মারুফের সঙ্গে যায় আনাস। মৌচাক মার্কেটের সামনে মারুফের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আনাসের। রিকশায় থাকা সগিরাকে চিনিয়ে দেয় আনাস। কিছুদূর যাওয়ার পর রিকশার গতিরোধ করে আটকায় তারা। মারুফ রেজা সগিরা মোর্শেদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং হাতে থাকা সোনার বালা ধরে টানাটানি করে। এসময় পাশে থেকে মারুফকে সহযোগিতা করে আনাস। তখন আনাসকে চিনে ফেলেন। তিনি আনাসের দিকে আঙুল তুলে বলেন, আমি তোমাকে চিনি, এই তুমি তো রেজওয়ান, তুমি এখানে কেন? একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করে মারুফ। প্রথম গুলিটি লাগে সগিরার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর ডান পার্শ্বে। দ্বিতীয় গুলিটি বুকে বিদ্ধ হয়ে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরই মারা যান সগিরা।

পিবিআই প্রধান বলেন, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বড় মেয়ে সারাহাত সালমাকে আনতে যাচ্ছিলেন তিনি। যাওয়ার পথে সিদ্ধেশ্বরীতে খুন হন সগিরা।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন