রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে সিলেটে গ্রেফতারি পরোয়ানা

রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে সিলেটে গ্রেফতারি পরোয়ানা
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। ফাইল ছবি

রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির তিনটি মামলায় সিলেট আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রবিবার সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ম) আদালতের বিচারক হারুনুর রশিদ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ম) আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তিনটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন জৈন্তাপুরের পাথর ব্যবসায়ী, ‘মাওলা স্টোন ক্রাশার মিল’র স্বত্বাধিকারী হাজী শামসুল মাওলা। সাহেদের দেয়া ১০ লক্ষ টাকা করে দুইটি চেকে ২০ লক্ষ টাকা ও আরও একটি চেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় এ তিন মামলা করেন তিনি। গতকাল আলোচিত সেই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিকালে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী সাহেদের জামিনের আবেদন করলে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ম) আদালতের বিচারক হারুনুর রশিদ সেটি নাকচ করে সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুস সাত্তার জানান, সিলেটের জাফলং পাথর কোয়ারির ব্যবসায়ী হাজী শামসুল মাওলার কাছ থেকে ২০১৯ সালে ৩০ লাখ টাকার পাথর ক্রয় করেন সাহেদ। কিন্তু, টাকা দিতে গড়িমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনটি চেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিল প্রদান করলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকগুলো ডিজঅনার হয়। এরই মধ্যে শাহেদ করোনা টেস্ট জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার হলে ডিজঅনার হওয়া তিনটি চেক মিলে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক তিনটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন শামসুল মাওলা। গতকাল মামলা তিনটির সমন ফেরত আসায় শুনানি শেষে শাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী হয়।

অন্যদিকে, প্রতারণার শিকার জৈন্তাপুরের ব্যবসায়ী শামসুল মাওলার দাবি, তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার পাথর নিয়ে পুরো টাকাটাই মেরে দিয়েছে প্রতারক সাহেদ। শামসুল জানান, গত বছর হঠাৎ একদিন ঢাকার একজন লোক তার কাছ থেকে এক গাড়ি পাথর কেনেন। যথারীতি নগদে বিলও পরিশোধ করেন সেই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তিই সাহেদ পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য পাথর সরবরাহের বড় একটি কন্টাক্ট পাইয়ে দেবেন বলে শামসুলকে জানান।

কথাবার্তার এক পর্যায়ে শামসুল মাওলার সঙ্গে ৩০ লাখ টাকার পাথর সরবরাহের চুক্তি করেন সাহেদ। এরপর বিল আনতে ঢাকায় গেলে তাকে দশ লাখ টাকা করে ত্রিশ লাখ টাকার তিনটি চেক ধরিয়ে দেয় সাহেদ। কিন্তু পরদিন ব্যাংকে গেলে ফান্ড স্বল্পতার কারণে দুটি চেক ডিজঅনার হয়। বিষয়টি সাহেদকে ফোনে জানাতেই সুর পাল্টে ফেলে সে। এরপর টাকার জন্য বহুবার ঢাকায় গিয়ে সাহেদের অফিসে ধর্না দেন। কিন্তু প্রতিবারই শামসুলকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

এদিকে, রিজেন্ট কেলেঙ্কারিতে শাহেদ গ্রেফতার হয়েছে খবর পেয়ে র‌্যাব সদর দফতরে গিয়ে হাজির হন শামসুল মাওলা। মামলার কাগজপত্র দেখান র‌্যাব কর্মকর্তাদের। পাওনা টাকা ফিরে পেতে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে গত ৪ মার্চ ২০২০ তারিখে সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট (১ম) আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার তিনটি পৃথক প্রতারণা মামলা দায়ের করেন শামসুল মাওলা।

করোনা সার্টিফিকেট জাল করে কারান্তরীণ সাহেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। ১০ বছর আগের একটি মামলায় ঢাকার আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে তাকে ৫৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন। সেই মামলায় সাহেদ কখনোই গ্রেফতার হননি। আরেকটি মামলায় ২০০৯ সালে সাহেদ গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে ছাড়া পান। বর্তমানে সাহেদ কারান্তরীণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x