Array
(
    [0] => Array
        (
            [0] => 
        )

)

দুদকের মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের নেই: হাইকোর্ট

দুদকের মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের নেই: হাইকোর্ট
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত কোনো দুর্নীতির মামলা দেশের কোনো আদালত থেকে সরকার প্রত্যাহার করতে পারে না। সরকার দুর্নীতির কোনো মামলা প্রত্যাহার করতে চাইলে আদালতে নয়, অনুরোধ জানিয়ে বা ইচ্ছা প্রকাশ করে দুদক বরাবর আবেদন করতে হবে। আইন অনুযায়ী দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করার একমাত্র ক্ষমতা কমিশনের, সরকারের নয়।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলেছেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪৯৪ ধারায়, রায়ের আগ পর্যন্ত কোনো মামলা সরকারকে প্রত্যাহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ১০(৪) ধারা অনুযায়ী কমিশনের অনুমতি ছাড়া দুর্নীতির কোনো মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়নি।

রায়ে বলা হয়, ২০০৪ সালে প্রণীত দুদক আইন অনুযায়ী কমিশন সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। কমিশন তার নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কমিশন আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো অপরাধ বিচারের জন্য আমলে নিতে পারবে না আদালত। আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী কমিশনের মামলা পরিচালনার জন্য নিজস্ব প্রসিকিউশন টিম থাকবে। সুতরাং দুদক আইন ও ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট একসঙ্গে মিলিয়ে পড়লে এটা স্পষ্ট যে, সিআরপিসির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা শুধুমাত্র কমিশনের।

রায়ে বলা হয়, আসামিরা ইচ্ছা করলে কমিশনের কাছে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন। আর কমিশনেরও যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ত্রাণের টিন আত্মসাতের মামলায় সুনামগঞ্জের বড়দল (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ চারজনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পিপিকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর পিপি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন দেন। ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেয় আদালত।

এর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। গত ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুদকের আবেদন গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের মামলা প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করে দেয়।

রায়ে বলা হয়, সিলেট আদালতে বিচারাধীন আলোচিত মামলাটি প্রত্যাহার করা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর হস্তক্ষেপের সামিল। ঐ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এতে সিলেট আদালতকে মামলা চলমান রাখতে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত