টাঙ্গাইলে অপহরণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলে অপহরণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর দুই আসামিকে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে ১০ বছর করে।

আসামিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এই দণ্ডাদেশ দেন।

আরও পড়ুন: দুই মামলায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট

যাবজ্জীবন (আমৃত্যু অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত) সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রামপুর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) ও গোপালপুর উপজেলার কামাক্ষাবাড়ী গ্রামের হিরালাল আর্যের ছেলে গৌতম চন্দ্র আর্য (৩০)।

এছাড়া ১০ বছর করে আটকাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঘাটাইলের নিয়ামতপুর কাজীপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে হাসান আলী (২৫) ও ভূঞাপুরের রুহুলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. সোহেল (২৫)। এখন প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও ঘটনার সময় তারা শিশু থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের পরিবর্তে আটকাদেশ দেয়া হয়।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি অ্যাডভোকেট শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু জানান, বিগত ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভূঞাপুর উপজেলার পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের মো. সাগরের আট বছর বয়সী ছেলে মাসুদ রানা সয়ন তার নানার বাড়ি রুহুলী থেকে মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। সে ওই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল। স্কুল থেকে আসামিরা তাকে অপহরণ করেন। পরে তারা সয়নের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা অপহরণকারীদের দেয়া হয়। তারপরও অপহরণকারীরা সয়নকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেন। এ ঘটনায় সয়নের নানী মাজেদা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্রধরে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামিরা আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন: শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসা শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের দেয়া তথ্যমতে বিগত ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ মধুপুর উপজেলার টেংরী গোরস্থানস্থ জনৈক শাহ আলমের বসতবাড়ির ভিতরে পশ্চিম পাশে প্রাচীর সংলগ্ন স্থান থেকে ভিকটিম মাসুদ রানা সয়নের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বিচারক রায় ঘোষণার পর আদালতের বারান্দায় আসামিদের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এছাড়া আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট মিসেস খুকু রানী দাস।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x