ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক জানতে চেয়েছেন আদালত

মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক জানতে চেয়েছেন আদালত
ফাইল ছবি

মানবদেহের জন্য মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) সমীক্ষা চালিয়ে চার মাসের মধ্যে বিষয়গুলো আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন (তেজস্ক্রিয়তা) প্রতিরোধে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। রিটকারী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া এ তথ্য জানান।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।

একলাছ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, কয়েক দফা নির্দেশনা দেয় আজ আদালত। আদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, অফিস আদালতের ছাদে ও জনসমাগম এলাকার আশপাশের ভবনে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ার মানুষের জন্য কী ধরনের ক্ষতি করছে তা জানতে বিটিআরসিকে সমীক্ষা চালাতে বলেছে আদালত। আগামী চার মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ মামলাটি চলমান থাকবে বলেও আদালত বলেছেন।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া, সরোয়ার আহাদ চৌধুরী পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাললাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১২ সালে একুশে টেলিভিশনের ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর এ ধরনের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারের রেডিয়েশনের মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কয়েকটি মোবাইলফোন টাওয়ার পরিদর্শন করে রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ গ্রহণকারীরা গণদুশমন: গয়েশ্বর

মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের আদেশ অনুসারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গবেষণা করে জানায় দেশে ব্যবহৃত টাওয়ারগুলোর রেডিয়েশনের মাত্রা আন্তর্জাতিক মাত্রার তুলনায় বেশি। এরপর এ নিয়ে একটি গাইড লাইন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। সে অনুসারে বিটিআরসি একটি গাইড লাইন করে আদালতে দাখিল করেছিলো। তিনি আরও বলেন, মামলার শুনানিতে আমরা ভারতের দু’টি রায় আদালতে দাখিল করেছি। সেখানে আমরা বলেছি আমাদের দেশের টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে মাত্রা রয়েছে তা দশ ভাগের একভাগে কমিয়ে আনতে হবে।

পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সে রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সমীক্ষা করে দেশের টাওয়ারগুলোর ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসস

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন