ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


‘ওসি আইনি সহায়তা দিলে আপুকে এভাবে মরতে হত না’

‘ওসি আইনি সহায়তা দিলে আপুকে এভাবে মরতে হত না’
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নুসরাতের মা ও ভাই।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।

নুসরাতের ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান আদালতে বলেন, ‘যৌন হয়রানির মামলা করার পর ওসি মোয়াজ্জেম আইনি সহায়তা দিলে আজ আপুকে এভাবে মরতে হত না।’

রায়হান তার সাক্ষ্যে আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পর আমাদের কোনো প্রকারের নিরাপত্তা দেননি ওসি। মামলা করতে যাওয়ার পর মা ও আমাকে তার রুমে ঢুকতে দেননি ওসি। আমার বোনকে ভিডিও করার নামে আপত্তিকর প্রশ্ন করেছেন তিনি। নেকাব খুলে ভিডিও করায় আমার বোন ওসির রুম থেকে বেরিয়ে এসে অনেক কান্নাকাটি করেছে। মামলা করার পর আমরা সেখান থেকে চলে আসি। ১২ এপ্রিল ফেসবুকে ভিডিওতে দেখলাম আপুকে ওসি আপত্তিকর অনেক প্রশ্ন করেছে।’

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার আদালতে বলেন, ‘ওসির রুমের ভেতরে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু সময় পর নুসরাত ওসির রুম থেকে বের হয়ে আসে। সে জানায়, ওসি মোয়াজ্জেম তার নেকাব খুলে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন। ওসির কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর নুসরাত এই কথা বলে কান্নাকাটি করতে থাকে।’

শিরিন আক্তার বলেন, ‘সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলার পর গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ৩০ মিনিট পর ওসি মোয়াজ্জেম সেই ভিডিও মিডিয়ায় ছেড়ে দেন।’

গ্রেপ্তারের পর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষ্য দেওয়ার পর নুসরাতের মা ও ভাইকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। তিনি তাদের বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাদে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহানের শরীরে আগুন দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

নুসরাতের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর আদালত ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বেশ কিছুদিন পালিয়ে থাকার পর গত ১৬ জুন আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে যান মোয়াজ্জেম। সেখানে গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন