ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


রাজিবের ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট

গণপরিবহনে চালক নিয়োগ দিতে হবে মাসিক বেতনে

গণপরিবহনে চালক নিয়োগ দিতে হবে মাসিক বেতনে
দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর মারা যাওয়া রাজীব হাসান। ফাইল ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণপরিবহনে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি কোম্পানির অধীনে চালকদের এই নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ নিষিদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের ক্ষতিপূরণ মামলায় বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, বাস কোম্পানি ও চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে বিদ্যমান সকল বাস কোম্পানিগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে আনতে হবে। সব মহানগরে জোন বা লাইন ভিত্তিক বাস রুট ফ্যাঞ্চাইজ করতে হবে। যেখানে সমস্ত গাড়িকে একটি কোম্পানির অধীনে নিয়ে এসে একেকটি রুটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের বাস সার্ভিস চালু করবে। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করবে বিআরটিএ। মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিটি ক্রসিংয়ে ও বাস স্টপেজে চালকরা বেপরোয়াভাবে গণপরিবহন চালাচ্ছে কিনা তা নজরদারি করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। নির্মাণ করতে হবে যাত্রীদের জন্য যাত্রী ছাউনি। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এ নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বিবাদীদেরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ের অনুলিপি প্রকাশের বিষয়টি শনিবার নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আরো পড়ুন : মন্ত্রিত্ব গেলে আবার সাংবাদিকতায় আসব: ওবায়দুল কাদের

রায়ে বলা হয়েছে, বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের চালকের বেপরোয়া যান চালনার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। হালকা যান চালনার লাইসেন্স থাকার পরেও তারা ভারি যান চালাচ্ছিল। তাদেরকে এই ভারি যান চালনার অনুমতি দিয়েছিলো বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই দুর্ঘটনার দায় কোনভাবেই এই দুটি পরিবহন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এজন্য রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান বাপ্পী ও আব্দুল্লাহ হৃদয়কে ওই দুটি বাস কর্তৃপক্ষ দুই মাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, স্বজন পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের সকল পরিচালক যৌথ ও এককভাবে ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ দায় তারা এড়াতে পারে না। তাই স্বজন পরিবহনের ১৩ পরিচালকের প্রত্যেকে ২৫ লাখ টাকা সমহারে প্রদান করবে। রায়ে যত্রতত্র বাসে যাত্রী না তোলা, চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা সংরক্ষিত ও আবাসিক এলাকার সামনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের হর্ন না বাজাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়ে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল মারা যান রাজীব। এ ঘটনায় হাইকোর্টে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ওই রিটের উপর গত ২০ জুন রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন